দেবীদ্বারে দুর্যোগ সচেতনতায় র‍্যালি, আলোচনা সভা ও মহড়া অনুষ্ঠিত

তাছকিয়া রহমান প্রতিভা, দেবীদ্বার।।

‎কুমিল্লার দেবীদ্বারে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক জীবনরক্ষাকারী মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৩ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে “ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি”—এ প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে সামনে রেখে দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

‎দিবসটির তাৎপর্য জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে অনুষ্ঠান শুরুতেই দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, স্কাউটস, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।

‎র‍্যালি শেষে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. যোবায়ের হাসান’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী অর্জিন চাকমা প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

‎আলোচনা শেষে উপজেলা চত্বরে মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহায়তায় একটি সচেতনতামূলক জীবনরক্ষাকারী মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাসা-বাড়িতে হঠাৎ আগুন লাগলে বা ভূমিকম্পের শিকার হলে কীভাবে তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষা করতে হবে এবং আইওটি বা মোবাইল অ্যাপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আগাম সতর্কবার্তা গ্রহণ করা যায়, তা বাস্তবিকভাবে প্রদর্শন করা হয়।

‎আলোচকরা বলেন, যেকোনো দুর্যোগে প্রথম সাড়া দেয় আমাদের পরিবার এবং প্রতিবেশীরা। তাই প্রতিটি ঘর যদি দুর্যোগ সহনশীল ও প্রস্তুত থাকে, তবে জাতীয় পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। গ্রামীণ এবং প্রান্তিক অঞ্চলের বাড়িগুলো যাতে যেকোনো দুর্যোগের ধকল নিতে পারে, তার জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, দেবীদ্বারের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয়দের মাঝে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস ও গৃহভিত্তিক প্রস্তুতি গড়ে তোলার একটি সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে চলমান রাখলে দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি ও জীবনহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।