দেবীদ্বারে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে গুনে পাশে রাখছেন গ্রাহক, সুযোগে টাকা নিয়ে সটকে পড়লেন চোর

তাছকিয়া রহমান প্রতিভা,দেবীদ্বার।।
ব‍্যাংক থেকে ৭ লক্ষ টাকা তুলে সোফায় বসে স্ত্রী, পুত্রবধূকে নিয়ে টাকা গুনে গুনে পেছনে জমা করছিলেন গ্রাহক, পাশে বসা চোর কৌশলে ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে সটকে পড়ল।

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার বিকেল ৪ টা ২৫ মিনিটের সময় কুমিল্লার দেবীদ্বারে পূবালী ব‍্যাংক শাখায়।

টাকার হিসেব মিলাতে না পেরে হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকেন গ্রাহক মো. জাকির হোসেন ও তার পরিবার। টাকা চুরির পর ব‍্যাংকের সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ দেখেই নিশ্চিত হলেন কিভাবে তার টাকা চুরি হয়েছে। সবাই যখন টাকাগুনা ব‍্যাস্ত এবং টাকার বাইন্ডেলগুলো পেছনে জমা করছিলেন, তখন চোর কৌশলে পেছন থেকে এক লক্ষ টাকার ৪ টি বাইন্ডেল নিয়ে সটকে পড়ে

গ্রাহক মো. জাকির হোসেন জানান, তার বাড়ি দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের চানমিয়া সরকার বাড়ি। পিতার নাম মৃত: সিরাজুল ইসলাম। পেশায় তিনি একজন ইলেক্ট্রেশিয়ান। তিনি আরো জানান, পারিবারিক প্রয়োজনে পূবালী ব্যাংক দেবীদ্বার শাখা থেকে ৭ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। ব‍্যাংক তাকে সবগুলো এক লক্ষ টাকার বাইন্ডেল না দিয়ে এক হাজার টাকা নোটের ৫ টি, ৫ শত টাকার ২ এবং একশত টাকার ১০ টি বাইন্ডেল দেন। তখন গ্রাহক আপত্তি জানালেও ব‍্যাংক ব‍্যবস্থাপক বলেন, টাকাগুলো গুনে নিন। ছেড়া টাকা আছে কিনা দেখে নিন। তখন ব‍্যাংকের ভেতরে সোফায় বসে গ্রাহক মো. জাকির হোসেন, তার পুত্রবধূ পলি আক্তার এবং তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মনোযোগসহকারে টাকা গুনছিলেন। প্রথমে এক হাজার টাকার ৪টি বাইন্ডেল ৪ লক্ষ টাকা গুনে পেছনে লোকিয়ে রাখেন পরে সবাই বাকী টাকা মনোযোগসহকারে গুনছিলেন। টাকা গুনা শেষে ৭ লক্ষ টাকার হিসেব না মেলাতে পেরে, সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হন।

ওই ঘটনায় রাতেই মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।

এ ব‍্যাপারে পূবালী ব‍্যাংক ব‍্যবস্থাপক মো. ওয়ায়েছ মাসুম চৌধূরী জানান, একজন গ্রাহক টাকা উত্তোলন করে গননায় ব‍্যাস্ত ছিলেন। টাকা গুনে গুনে পেছনে রাখছেন অথচ ডান-বামে লক্ষ‍্য করছেন না। এ সুযোগে প্রতারক চক্রের সদস‍্য কৌশলে ৪ লক্ষ টাকার ৪ টা বাইন্ডেল নিয়ে চলে গেল। সিসি ক্যামেরার সুবাদে জানা গেল টাকাগুলি কিভাবে চুরি হল।

এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো মনিরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়েছি, সাথে সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজও পেয়েছি। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব‍্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছি।