সৌদিতে সড়ক দূর্ঘটনায় তোফায়েলের মৃত্যু, ‘মিথ্যা রিপোর্টে’ ধামাচাপার অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি পরিবারের
গাজী রুবেল।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাগাইশ গ্রামের জয়নাল আবেদীন পীর সাহেবের বাড়ির বাসিন্দা মো. তোফায়েল আহমেদ (৩২) সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর প্রবাস জীবনের পর তার মরদেহ দেশে ফিরেছে, কিন্তু মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঠিক তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। তাদের অভিযোগ, ডিউটিরত অবস্থায় মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মালিকপক্ষ তড়িঘড়ি করে মিথ্যা রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহ দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তোফায়েল আহমেদ সৌদি আরবের বাহদাহ শহরে আল জাহারাইন কোম্পানির অধীনে একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। গত ১৩ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ডিউটিতে থাকা অবস্থায় সহকর্মীদের জন্য নাস্তা নিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয় বলে সহকর্মীদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছে পরিবার। নিহতের বড় ভাই মাসুদ রানা দাবি করেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়নি এবং মালিকপক্ষের আচরণও ছিল রহস্যজনক।
মাসুদ রানা বলেন, “আমার ভাই ডিউটিরত অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু তার মালিকপক্ষ নয়-ছয় বুঝিয়ে একটি মিথ্যা রিপোর্ট সাজিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করেছে। আমরা মনে করছি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ গোপন করতেই দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখনও জানি না ঠিক কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে। ক্ষতিপূরণ তো দূরের কথা, মালিকপক্ষ তার পাসপোর্ট ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে। একজন প্রবাসী শ্রমিক মৃত্যুর পর তার পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিদেশে শ্রম দিয়ে যাওয়া একজন প্রবাসীর মৃত্যুর পরও তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, স্বচ্ছ তথ্য কিংবা আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা পাচ্ছেন না। তাই তারা সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হবে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা দ্রুত পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবী জানান।
প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (২১ জুলাই) তোফায়েলের মরদেহ দেশে আনা হয়। একই দিন সকাল ১১টায় নাগাইশ গাউছিয়া জামে মসজিদ মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তোফায়েল আহমেদ অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া এক প্রবাসী যুবকের রহস্যঘেরা মৃত্যু স্থানীয়দের মাঝেও ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।