দেড় বছর ধরে বেহাল সড়ক, ব্যক্তিগত অর্থায়নে সংস্কার করলেন হাজী দেলোয়ার

আহনাফ তিহামী,দাউদকান্দি-তিতাস।।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভুলিরপাড় ব্রিজ থেকে সরকাপুর তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জমে থাকত পানি। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল।

বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি ছিল বেশি। সড়কটির এমন দুরবস্থা দেখে স্থানীয় হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন নিজ উদ্যোগে ও নিজ অর্থায়নে সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে ছিল। বৃষ্টির সময় সড়কের ওপর পানি জমে থাকায় অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হতো। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন।

হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ভুলিরপাড় ব্রিজ থেকে সরকাপুর তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন জায়গা ভাঙা ছিল। বৃষ্টি হলে সেখানে পানি জমে থাকত। অসুস্থ রোগী, ডেলিভারি রোগী ও গর্ভবতী নারীদের এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে অনেক কষ্ট হতো। এলাকার মানুষ প্রায়ই আমাকে বলতেন, ভাই, আপনি একটু দেখেন, কীভাবে মানুষের দুর্ভোগ কমানো যায়। মানুষের কথা চিন্তা করে আমি নিজ উদ্যোগে ও নিজ অর্থায়নে সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু করেছি।

তিনি আরও বলেন, এই সড়ক দিয়ে শত শত, এমনকি হাজারো মানুষ চলাচল করেন। মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমাতে পারব এটাই আমার উদ্দেশ্য।

অটোরিকশাচালক মো. সবুজ মিয়া বলেন, আমি প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর ধরে অটোরিকশা চালাই। বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকত। পানিতে পড়ে অনেক সময় অটোরিকশার স্টার্ট বন্ধ হয়ে যেত। তখন গাড়ি নিয়ে আটকে থাকতে হতো। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভোগান্তিতে ছিলাম। এখন যিনি নিজ উদ্যোগে সড়কটি সংস্কার করে দিচ্ছেন, তাঁকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। কাজ শেষ হলে আমরা স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালাতে পারব এবং বৃষ্টির সময়ও পানি জমার সমস্যা অনেকটা কমবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. কবির হোসেন ও মো. শামিম বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে সড়কটির বেহাল দশা। এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে মানুষের অনেক কষ্ট হয়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের অটোরিকশা বা অন্যান্য যানবাহনে করে যাতায়াত করতে খুবই কষ্ট হয়। সড়কের বিভিন্ন জায়গা ভাঙাচোরা এবং বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকত। আমাদের এলাকার হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন নিজ অর্থায়নে সড়কটি সংস্কার করে দিচ্ছেন। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা এলাকাবাসী তাঁকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভুলিরপাড় ব্রিজ থেকে সরকাপুর তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে শ্রমিকেরা সংস্কারকাজ করছেন। সড়কের ভাঙাচোরা অংশ মেরামত ও চলাচলের উপযোগী করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের আশা, সংস্কারকাজ শেষ হলে সড়কটি দিয়ে মানুষের চলাচল সহজ হবে। পাশাপাশি বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকা, যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন এবং রোগী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও অনেকটা কমবে।