গাজী রুবেল:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা দুই কন্যাশিশু ইসরাত ও রোজা মনির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের বৃহত্তম রিটেইল চেইন শপ ‘স্বপ্ন’।
শিশু দুটির পরিবারের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে একটি গাভী উপহার দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গাভী পালন ও দুধ বিক্রির মাধ্যমে নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হলে পরিবারটির জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাল্লা এলাকায় শিশু দুটির পরিবারের কাছে গাভীটি পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‘স্বপ্ন’ এর রিজিওনাল ম্যানেজার (কুমিল্লা-ফেনী) মাইনুল ইসলাম ও ব্রাহ্মণপাড়া শাখার ম্যানেজার সারোয়ার হোসেন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার এসআই সুজনসহ পুলিশ একটি দল।
গত ১১ অক্টোবর দুপুরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দক্ষিণ বাজার এলাকায় রোজ গার্ডেন মডেল স্কুলসংলগ্ন সড়কের পাশে পাঁচ বছর বয়সী ইসরাত ও তার দেড় বছর বয়সী ছোট বোন রোজা মনিকে একা কাঁদতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ইসরাতের ভাষ্য অনুযায়ী, চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে তাদের সেখানে নিয়ে আসেন মা। পরে দুই শিশুকে একা রেখে চলে যান তিনি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও মাকে ফিরে না পেয়ে অসহায় অবস্থায় পড়ে দুই বোন।পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে শিশু দুটির পরিচয় শনাক্ত হয়।
খবর পেয়ে তাদের এক চাচি ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশু দুটিকে নিজের জিম্মায় নেন। এ ঘটনা জানার পর শিশু দুটির পরিবারের আর্থিক সংকট কাটিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে আসে ‘স্বপ্ন’। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পরিবারটিকে গাভী উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গাভী পালন ও দুধ বিক্রির মাধ্যমে পরিবারটি নিয়মিত আয় করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এতে শিশু দুটির লালন পালন, পরিচর্যা ও ভবিষ্যৎ গঠনে পরিবারটি বাড়তি আর্থিক সহায়তা পাবে।
‘স্বপ্ন’ মনে করে, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করাও সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়া শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগের মাধ্যমে ইসরাত ও রোজা মনির পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে এবং পরিবারটি ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।