সরকারি জমিতে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণে যুবদল সভাপতির ৫ লাখ টাকা চাঁদাদাবির অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমিকে নিজের দাবি করে, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সাথে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে যুবদল নেতা চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সূত্রমতে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটপাড়া পশ্চিমপাড়ার একটি বাড়ির রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা তাসলিমা বেগম রিতা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই যুবদল সভাপতি।

ক্রয়সূত্রে জমির মালিক আজিজুল হক সোহাগ ও মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানান, “যুবদল সভাপতি আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে আমরা পৃথকভাবে এই জমি ক্রয় করি। যে রাস্তা নিয়ে কথা হচ্ছে, এটির মালিকানা আসলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তিনি আমাদের নিকট জমি বিক্রির পরও এটিকে নিজের দাবি করে স্থানীয়দের কাছে টাকা দাবি করছেন। জমির দলিল, খারিজ ও খতিয়ান আমাদের নামে রয়েছে। তাহলে জমি তার হয় কী করে?”

স্থানীয় তাসলিমা বেগম, নাজমা বেগম, মালু বিবি ও রুমা আক্তারসহ ১৩টি পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকাটি জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। এ অবস্থায় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে যুবদল সভাপতি উন্নয়নকাজে বাধা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজ ঘিরে তিনি পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। তাঁকে টাকা না দিলে তিনি এখানে রাস্তা ও ড্রেন হতে দেবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমি তাদের কাছে চাঁদার কথা বলিনি। এখানে আমার জমি আছে। আমি বলেছি, আমার অনুমতি ছাড়া রাস্তা হতে দেব না। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য আমার দলেরই কিছু লোক এসব করছে।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “ভাটপাড়ার বাসিন্দারা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। যখন কাজ শুরু হবে, সরকারের সেই উন্নয়ন কাজে কেউ যদি সমস্যা তৈরি করে, তবে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশের একটি টিম বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।”