রাহাদুল ইসলাম সুজন, কুবি।।
“দুনিয়ার সব বিপ্লবী, বিপ্লব পরবর্তী যারা গভর্মেন্টে থাকে তারা এটাকে কুক্ষিগত করে। ওইটা ৭১ নিয়েও হয়েছে, ৪৭ নিয়েও হয়েছে, এর আগে সিপাহী বিদ্রোহ নিয়েও হয়েছে, জুলাই নিয়েও হবে” বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুবি শাখার আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন “ক্ষমতার সমীকরণের ওপর ভিত্তি করেই বিপ্লব ও অপরাধের সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়। জুলাই আন্দোলনের পর তৎকালীন সরকার বা পুলিশের লোকজন হতাহত হলেও তাদের নিয়ে কেউ কথা বলে না; কারণ তারা সমাজের দৃষ্টিতে ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত। তবে শেখ হাসিনা সরকার টিকে গেলে পরিস্থিতি উল্টো হতো—আজকের বিপ্লবীরা হতো ‘সন্ত্রাসী’ বা অপরাধী, আর তৎকালীন সরকার নিজেদের বিপ্লবী হিসেবে উপস্থাপন করত।”
বর্তমানে জুলাইকে নিয়ে টানাহ্যাঁচড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন “এখন জুলাইয়ের মধ্যে ক্রিম আছে, মাখন আছে। খেতে সুন্দর, ব্যবহার করতে ভালো। কিন্তু যখন এটার ইউজ শেষ হয়ে যাবে, তখন আবার এটাকে কেউ ধারণ করতে চাইবে না। এটাই নেচার।”
বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা শহরের ঢুলিপাড়া চৌমুহনী এলাকায় এ নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় পরিচালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
এ ছাড়াও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের অন্য নেতারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা।