রাহাদুল ইসলাম সুজন, কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের একদিন পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তুহিন (১৮) নামে এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসসংলগ্ন সানন্দা গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের কাছে অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় আবদুল কাদের জিলানীর ১৫ বছর বয়সী ভাতিজা। আবদুল কাদের জিলানী জানান, কাজের জন্য বাঁশ কাটতে তিনি ভাতিজাকে নিয়ে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। বেলা ১১টার দিকে বাঁশঝাড়ের কাছে গেলে তার ভাতিজা মরদেহটি দেখতে পায়। পরে ভয় পেয়ে তারা সেখান থেকে চলে আসেন।
আবদুল কাদের জিলানী বলেন, ‘আমরা ফেসবুক বা ইউটিউব চালাই না। এত কিছু ঘটেছে সেটিও জানি না। পরে মামুন ভাইয়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়। তিনি আমাকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাডামের ছেলে হারিয়ে গেছে। তখন আমি তাকে বলি, ওইখানে একটা বাচ্চাকে পড়ে থাকতে দেখেছি। পরে মামুন ভাইকে নিয়ে সেখানে যাই। তিনি পুলিশকে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অপ্রতিমের মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তের দাগ দেখা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে এবং তারা কিছু ক্লু পেয়েছে। একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রকৃত হত্যাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাবে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেকটা নিশ্চিত, মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যার ঘটনা।’ তিনি জানান, অপ্রতিমের নিখোঁজ হওয়ার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের মায়ের আইফোনের সর্বশেষ লোকেশন কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকায় পাওয়া যাচ্ছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো লোকেশন শনাক্ত করা যায়নি।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মায়ের আইফোন নিয়ে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।