ডেস্ক রিপোর্ট।।
মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। এর মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ছয়জন এবং কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকে থাকা একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রেসটো অ্যান্ড রিসোর্টে’ আগুন লাগে। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লায়লা জাহান নাবিলা এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মেলিতা মেহেজাবিন আলভিসহ একই পরিবারের ছয়জন নিহত হন। পরিবারের নয়জন সদস্য সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
নিহত অন্যরা হলেন মালিহা, মিলা, সাবরিন ও শিশু ফাইজান আহমেদ। তাদের মধ্যে নাফিজ, নাবিলা, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। ফারিহা কবির নাফিজের বড় বোন এবং ফাইজান তার ভাগ্নে।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দময় সময় কাটাতে রিসোর্টে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই ভ্রমণই পরিণত হলো এক মর্মান্তিক পরিণতিতে। স্বজনদের সঙ্গে ফিরে আসার বদলে পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়ে শোকের মুখোমুখি হতে হলো তাদের আপনজনদের।
এ বিষয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটের দিকে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পান তারা। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে ফায়ার সার্ভিস অন্তত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল। এ ঘটনায় আহত ছয়জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সায়েদাবাদ বাজারের পাশে মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের একই পরিবারের পাঁচ আরোহী নিহত হন। স্থানীয়দের দাবি, ইজিবাইকটিতে পাঁচজন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর প্রথমে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে হাসপাতালে আরও দুজন মারা যান।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউসার আলী প্রাথমিকভাবে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে তারা একই পরিবারের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
একদিকে ছুটি কাটাতে গিয়ে আগুনে পরিবারের ছয় সদস্যকে হারানোর শোক, অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু—দুই ঘটনায় এক দিনে অসহনীয় শোকে দুই পরিবার।