কুমিল্লায় গীতা শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মহালয়া উৎসব উদযাপন

তাপস চন্দ্র সরকার।।

বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে কুমিল্লার বিভিন্ন গীতা শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মহালয়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যময় সূচনা লগ্নে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় নগরীর কান্দিরপাড় মনোহরপুরস্থ শ্রীশ্রী রাজ রাজেশ্বরী কালী মায়ের বাড়িতে এ মহালয়া উৎসবের আয়োজন করা হয়।

এতে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার গীতা শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বেদমন্ত্র পাঠ, চণ্ডীপূজা, চণ্ডীপাঠ ও আহ্বান গীতিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা স্মরণ করা হয়। ধর্মীয় মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজার আনুষ্ঠানিকতায় পুরো অনুষ্ঠানস্থলে এক পবিত্র ও ভক্তিময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্ত ও শ্রোতাদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রীকাইল ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ ভট্টাচার্য্য। মহালয়ার তাৎপর্য, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও গীতা শিক্ষার গুরুত্বকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়। মহালয়া সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবীপক্ষের সূচনা এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচিত। এ দিনকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে দেবী দুর্গার আগমন উপলক্ষে আনন্দ, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবহের সৃষ্টি হয়। কুমিল্লার গীতা শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শাস্ত্রীয় জ্ঞানচর্চা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জিপি অ্যাডভোকেট তপন বিহারী নাগ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত জিপি অ্যাডভোকেট রণদা প্রসাদ সিংহ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সাহা ও সদস্যসচিব সঞ্জিত দেবনাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক দুলাল দেবনাথ ও সদস্যসচিব সুবাস বণিক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার আইসিটি সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ট্রাস্টি নির্মল পাল ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সরকার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমল চন্দ খোকন, কুমিল্লা শ্রীশ্রী রাসস্থলী ও রামঠাকুর আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক ড. দুলাল নন্দী, ত্রিশূল গীতা শিক্ষালয়ের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ড. বিশ্বজিৎ দেব, তাপস কুমার নাহা ও অ্যাডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. অংকুর দত্ত ও ডা. বনশ্রী সাহা, অধ্যক্ষ তপন সাহা ও বিধান চন্দ, প্রকৌশলী নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি অচিন্ত দাশ টিটু, সহ-সভাপতি দীলিপ কুমার নাগ কানাই ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দাশ, বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দে, জাগো হিন্দু পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি সাগর দাশ এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার সহ-দপ্তর সম্পাদক শিব প্রসাদ মজুমদার রাহুলসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. একরামুল হক নাসিম।

এবারের মহালয়া উৎসবের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার গীতা শিক্ষালয় ও গীতা পাঠশালার শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ।

অনুষ্ঠানে অংশ নেয় কুমিল্লা রাসস্থলী ত্রিশূল গীতা শিক্ষালয়, রাজ রাজেশ্বরী গীতা শিক্ষালয়, সারদা পালের মাঠ চন্দ্রিকা গীতা শিক্ষা কেন্দ্র, ডিগাম্বরীতলা গুপ্ত জগন্নাথ গীতা পাঠশালা, মহেশাঙ্গণ নিষ্কাম কর্মযোগ গীতা শিক্ষালয়, কাত্যায়নী কালী বাড়ি কুমিল্লা তীর্থধাম গীতা শিক্ষালয়, কালিয়াজুরী কল্পতরু গীতা শিক্ষালয়, টিক্কাচর মহাশ্মশান গীতা পাঠশালা, শ্রীবল্লভপুর ঘোষপাড়া গীতা শিক্ষালয়, আলেখাচর সনাতনধর্ম বিদ্যাপীঠ, দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া শ্রীশ্রী রক্ষাকালী গীতা শিক্ষালয়, বিজয়পুর শ্রীমদ্ভাগবত গীতা বিদ্যাপীঠ, বারপাড়া শ্রীশ্রী পার্থসারথি গীতা শিক্ষালয়, দ্বিতীয় মুরাদপুর শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দির গীতা শিক্ষালয়, রামকৃষ্ণ মিশন শ্রীমা সারদা সংস্কৃতি ও গীতা শিক্ষালয় এবং ঝাউতলা শ্রীশ্রী গীতা শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবক ও সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন বয়সী মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন এলাকার গীতা শিক্ষালয়ের এ সম্মিলিত অংশগ্রহণ ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে। মহালয়া উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে শাস্ত্রীয় জ্ঞান, ধর্মীয় অনুশাসন, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চাকে আরও সম্প্রসারিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত হয়। একই সঙ্গে এ ধরনের আয়োজন ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কুমিল্লার গীতা শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এ মহালয়া উৎসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, আলোচনা ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।