কুমিল্লা লালমাই পাহাড়চূড়ায় স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের ৮ম তিরোধান স্মরণানুষ্ঠান ২৫ সেপ্টেম্বর

তাপস চন্দ্র সরকার।।
কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী লালমাই পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত শ্রী শ্রী চণ্ডিমূড়া মন্দিরে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মন্দিরের সেবাইত পরম শ্রদ্ধেয় স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের ৮ম তিরোধান স্মরণানুষ্ঠান।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও শ্রদ্ধার আবহে আয়োজিত এ স্মরণানুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শ্রী শ্রী চণ্ডিমূড়া মন্দির কুমিল্লার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, আস্থা ও আধ্যাত্মিকতার এক পবিত্র তীর্থস্থান। লালমাই পাহাড়ের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এ পুণ্যভূমিতে প্রতিবছর বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভক্তদের সমাগম ঘটে। এবারও স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের তিরোধান স্মরণানুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজ ছিলেন শ্রী শ্রী চণ্ডিমূড়া মন্দিরের সেবাইত হিসেবে ভক্তদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার ও ভালোবাসার একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর তিরোধানের পরও ভক্তদের হৃদয়ে তাঁর স্মৃতি, ধর্মীয় আদর্শ ও আধ্যাত্মিক চেতনা গভীরভাবে জাগরুক রয়েছে। প্রতি বছর তাঁর তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠান সেই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ। ৮ম তিরোধান স্মরণানুষ্ঠান উপলক্ষে এবারও দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকেই চণ্ডিমূড়া মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের আগমন শুরু হবে। পূজার্চনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুখরিত হয়ে উঠবে লালমাই পাহাড়চূড়ার পবিত্র পরিবেশ। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ শ্রী শ্রী চণ্ডী মায়ের পূজার্চনা। ভক্তরা মায়ের চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করে নিজেদের ও পরিবারের মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করবেন। এছাড়াও অনুষ্ঠিত হবে গীতা যজ্ঞ। পবিত্র গীতার বাণী, যজ্ঞের ধর্মীয় আচার এবং মন্ত্রোচ্চারণে অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হবে এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ। ধর্মীয় আলোচনা পর্বে সনাতন ধর্মের বিভিন্ন দিক, মানবজীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব এবং আধ্যাত্মিক চেতনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ধর্মীয় আলোচনা ও পূজার্চনার মধ্য দিয়ে ভক্তদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ধর্মীয় চেতনা আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরে আগত ভক্ত ও শ্রোতাদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের জন্য এটি হবে আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মহাপ্রসাদ গ্রহণকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হবে এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ। মানবিকতা, ভক্তি ও সম্প্রীতির বন্ধনে একত্রিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

৮ম তিরোধান স্মরণানুষ্ঠান সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ সনাতন ধর্মাবলম্বী সকলের উপস্থিতি ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি শুধু একটি স্মরণানুষ্ঠান নয়; এটি প্রিয় মহারাজের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ধর্মীয় চেতনা, ভক্তি ও সম্প্রীতির এক মিলনমেলা। তাই কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। লালমাই পাহাড়ের পবিত্র চূড়ায় শ্রী শ্রী চণ্ডিমূড়া মায়ের সান্নিধ্যে প্রিয় মহারাজের স্মরণে এই আয়োজন ভক্তদের হৃদয়ে নতুন করে ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার অনুভূতি জাগিয়ে তুলবে এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।

পবিত্র এই আয়োজনে পরিবার-পরিজন, স্বজন ও ভক্তবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শ্রী শ্রী চণ্ডিমূড়া মন্দিরে উপস্থিত হয়ে ধর্মীয় আয়োজনে অংশগ্রহণ এবং স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।