আহনাফ তিহামী,দাউদকান্দি।।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ইতিহাস লেখা যাবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা চত্বর মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ডান হাত হিসেবে কাজ করছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হয়। আমরা চাই, মেঘনা এমনভাবে উন্নয়নের রোল মডেল হোক, যাতে মানুষ এই এলাকার উন্নয়ন দেখে হিংসে করে।
তিনি আরও বলেন, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যেখানে ফোন করেন বা কোনো বিষয় নিয়ে যোগাযোগ করেন, সেখানে কাজ দ্রুত হয়ে থাকে। তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতার পরামর্শ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ইতিহাস লেখা যাবে না। বিএনপির ইতিহাস লিখতে গেলে সেখানে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম দেখতে পাবেন। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।
তিনি বলেন, আমাদের বাড়ি মেঘনায় কিন্তু মেঘনা অনেকেই চিনতেন না। আমরা পরিচয় দিতাম ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের লোক, তাঁর আলোতেই আমরা আলোকিত। শুধু মেঘনা নয়, পুরো কুমিল্লাবাসী তাঁর মাধ্যমে আলোকিত। তিনি যা করতে পারেন, আমরা হয়তো তা কখনোই পারব না। আমরা যদি কোনো অন্যায় করি, তিনি আমাদের শাসন করবেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন আমরা তাঁর রাজনীতি করব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন সংসদীয় কমিটির বৈঠক করেন এবং সরকারদলীয় এমপিদের নিয়ে বৈঠক করেন, তখন একজন ব্যক্তিকে তিনি কাছের চেয়ারে নিয়ে বসান। সেই ব্যক্তিই হলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন দেশে আসেন, তখন তিনি বলেছিলেন, আই হ্যাভ এ প্লান। সেই পরিকল্পনার অংশগুলো আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। আমরা কৃষক ও মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছি এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন দিচ্ছি। এগুলো ইতিমধ্যে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যে আশা নিয়ে দেশে এসেছেন, আমরা চাই তাঁর সেই পরিকল্পনা সুন্দরভাবে সম্পন্ন ও বাস্তবায়িত হোক।
মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মো. সালাউদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হাশেম।
আলোচনা সভা শেষে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করেন। র্যালিটি মেঘনা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতা-কর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে মেঘনা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।