ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রসূতির মৃত্যু: নিউরোসার্জারির শিক্ষার্থী দিয়ে সিজার

গাজী রুবেল।।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় আল বারাকা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতি পপি আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে চিকিৎসক পরিচয় ও যোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দাবি, প্রসূতির সিজার অপারেশনকারী চিকিৎসক আরিফুজ্জামান শুভ এখনো নিউরোসার্জারির শিক্ষার্থী এবং তার ডিগ্রি সম্পন্ন হয়নি। এ ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতি ও হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের তদন্ত কমিটির টিম প্রাথমিকভাবে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে। তবে যতটুকু জানতে পেরেছি, প্রসূতির সিজার অপারেশন যিনি করেছেন, তার ডিগ্রি এখনো সম্পন্ন হয়নি। আরিফুজ্জামান শুভ নামে ওই ব্যক্তি বর্তমানে নিউরোসার্জারির রানিং স্টুডেন্ট। তিনি কেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা আমার বোধগম্য নয়। তবে তিনি কোনোভাবেই এ ধরনের অপারেশন করতে পারেন না। তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানাতে পারব।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা চিকিৎসকের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর আল বারাকা হাসপাতালে পপি আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পরে ৭ সেপ্টেম্বর তিনি বাড়ি ফিরে যান। ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে সেলাই খোলার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনদের দাবি। পপি আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল ঘেরাও, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পরই চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।