স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মানরা উত্তরপাড়ায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও মালামাল লুট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে কামাল মিয়া ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রায় ছয় থেকে সাত মাস ধরে তাঁরা নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না। বাড়িতে ফিরতে গিয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ তাঁদের। এদিকে, হামলার অভিযোগের পাশাপাশি হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগকারী মো. কামরুল হাসান জানান, তাঁর পিতা মৃত আবুল কাশেম। তাঁদের বাড়ি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মানরা উত্তরপাড়া এলাকায়। প্রায় ছয়-সাত মাস আগে একই এলাকার মৃত আবু হানিফের ছেলে কামাল মিয়ার সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
কামরুল হাসানের অভিযোগ, বিরোধের পর থেকে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না। অন্যদিকে, কামাল মিয়া তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। গত ১৯ অক্টোবর তিনি বাড়িতে গেলে কামাল মিয়া, তাঁর ভাই জালাল ও হেলাল, দুলাল এবং কামালের ছেলে রবিউল হাসান ও মেহেদীসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর করে মালামাল ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি তাঁর।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতেও তাঁকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কামরুল হাসান।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার পর তাঁরা থানায় অভিযোগ দায়েরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথেও হামলার শিকার হন। পরবর্তীতে কুমিল্লা আদালত এলাকায় গেলে সেখানেও তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের আরও অভিযোগ, হামলার ঘটনার পর তাঁদের বিরুদ্ধেই হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে চাপের মুখে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কামরুল হাসানের ভাষ্য, দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া থাকায় তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাড়িতে ফিরতে গেলে আবারও হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি বাজারে যাওয়া ও দোকানপাটে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেও তাঁরা ভয় পাচ্ছেন। বিভিন্ন সময় তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁরা উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত কামাল মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ৯৯৯-এ কল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।