তাপস চন্দ্র সরকার।।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও আট মাস বয়সী ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগে আটক ইমন মিয়া (২৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন ইমনের মা পিয়ারা বেগম এবং তাঁর আট মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত জাহান। এ ঘটনায় শিশুটির মা ও ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সকাল সাড়ে আটটার দিকে ইমন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে দা দিয়ে তাঁর মা পিয়ারা বেগমকে কোপান। এরপর আট মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত জাহানকে আছাড় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় রাবেয়া বেগম বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাঁকেও দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পিয়ারা বেগম ও শিশু ইসরাত জাহানকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ইমনকে আটক করে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় দেবীদ্বার থানায় ২১ সেপ্টেম্বর মামলা নম্বর ৩১ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২৫ ও ৩০৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলার আসামি ইমন মিয়া (২৯), পিতা মৃত ফরিদ উদ্দিন ও মাতা মৃত পিয়ারা বেগম, বড়শালঘর (মোস্তফা মাস্টার বাড়ি), দেবীদ্বার, কুমিল্লা।
পরে ইমনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার বিধান অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪ এর বিচারক সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জবানবন্দিতে ইমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।