অন্যের স্ত্রীর সাথে আবাসিক হোটেলে দপ্তরী, ভিডিও ভাইরাল

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অফিস চলাকালিন সময়ে অন্যের স্ত্রী নিয়ে আবাসিক হোটেলে ধরা পড়েছে এছাক ভুঁইয়া নামের এক ব্যক্তি। সে পৌর এলাকার ফালগুনকরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী ও একই গ্রামের মরহুম আবু রশিদ ভুঁইয়ার ছেলে।

রোববার দুপুরে ধরা পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সোমবার বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয় যুব সমাজের নেতৃবৃন্দ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দকে বিষয়টি অবগত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা এছাক ভুঁইয়াকে ২০১৪ সালে ফালগুনকরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী ও নাইট গার্ড হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর সে বিদ্যালয় আঙিনায় কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয় দিয়ে আসছিল। এছাক ভূঁইয়া রোববার দুপুরে নিজ এলাকারই অন্যজনের স্ত্রীর সাথে চৌদ্দগ্রাম বাজারের ‘ওকে টাওয়ার’-এর পঞ্চম তলায় একটি আবাসিক হোটেলে ঘণ্টা চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়েছে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় যুবকরা তাদেরকে আটক করে। পরে তাঁর স্ত্রী উপস্থিত হলে এছাক ভুঁইয়া ও ওই নারীকে ছেড়ে দেয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এছাক ভুঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কিশোর গ্যাং ও মাদকসেবীদের সহায়তা করে আসছিল। এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর মারাত্মক অভিযোগও রয়েছে তাঁর নামে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, রোববার সকালেই মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে উত্যক্তের বিরুদ্ধে দপ্তরী এছাক ভুঁইয়াকে সতর্ক করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পরই শুনেছি, সে বাজারে একটি আবাসিক হোটেলে অন্যজনের স্ত্রী নিয়ে আটক হয়েছে। এছাড়াও সে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নারী অভিভাবকদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে অনৈতিক কাজ করে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিদ্যালয়ের দপ্তরী এছাক ভুঁইয়া বলেন, খারাপ কাজ করতে নারীকে নিয়ে এসেছি। তবে তাঁর শরীর অসুস্থ্য হওয়ায় সম্ভব হয়নি।

সোমবার দুপুরে ফালগুনকরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালেহা বেগম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও জেনেছে। তাঁর থেকে বিদ্যালয়ের চাবি নেয়া হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিষয়টি জেনেছি। এটা আমাদের ডিপার্টমেন্টের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।