৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ২ ঘণ্টা! কুমিল্লার আমতলীতে খানাখন্দে নিত্যদিনের যানজট

মারুফ আহমেদ।।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক—দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লাইফলাইন। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের আমতলীতে মাত্র প্রায় আধা কিঃ মিটার সড়কের বেহাল দশায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী, পরিবহন চালক ও পথচারীরা।

পরিবহন চালক, যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, টানা বর্ষণে মহাসড়কের আমতলী এলাকার একটি অংশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে ভারী যানবাহনও ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে সামান্য এই অংশটুকু অতিক্রম করতেই দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে মহাসড়কের উভয় পাশে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের প্রায় আধা কিঃ মিটার অংশে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লাল ইট দিয়ে বারবার সাময়িক সংস্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কয়েকটি ভারী যানবাহন চলাচল করলেই সেই সংস্কার ভেঙে আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।
ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে একদিকে যেমন সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি জনদুর্ভোগও থেকে যাচ্ছে আগের মতোই।

যানজটে আটকা পড়া একাধিক পরিবহন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করি। আমতলীর এই সামান্য অংশে বড় বড় গর্তের কারণে গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চালানো যায় না। পাঁচ মিনিটের পথ পার হতে কখনো কখনো দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এতে সময় ও জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

চালকদের দাবি, সড়কের গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনগুলোকে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলতে হয়। একটি গাড়ির পেছনে আরেকটি গাড়ি আটকে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
পণ্যবাহী পরিবহনের চালকরাও পড়েছেন একই দুর্ভোগে। তাদের ভাষ্য, আমতলী এলাকায় প্রতিদিন যানজটে আটকে থাকায় নির্ধারিত সময়ে পণ্য গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও নানা ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়কের মাত্র আধা কিলোমিটার অংশ যদি প্রতিদিন হাজারো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়, তাহলে এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না কেন?

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাময়িকভাবে ইট ফেলে গর্ত ভরাট করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের টেকসই ও মানসম্মত সংস্কার।
ভুক্তভোগী চালক ও যাত্রীদের দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আমতলী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করুক। নিত্যদিনের এই যানজট ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান মহাসড়ক ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ।

বিষয়টি জানতে চাইলে, ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমতলী এলাকায় গত তিন মাস ধরে সংস্কারকাজ চলছে। এই সংস্কার টেকসই এবং স্থায়ী না হওয়ায় সড়কটি বার বার বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাচ্ছে।’ ‘ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর সংস্কার শুরু হয়নি।’

এ বিষয়ে সওজ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমতলী অংশে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে সংস্কারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। রোদ উঠলেই পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।’