তাপস চন্দ্র সরকার।।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা সিটি পার্কের সুপ্রভাত ধর্মসাগর পাড় মঞ্চের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে নিহত চারজনের আত্মার শান্তি ও সৎগতি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) প্রতিদিনের মতো ব্যায়াম ও হাঁটা শেষে কুমিল্লা সিটি পার্কের সুপ্রভাত ধর্মসাগর পাড় মঞ্চের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় উপস্থিত সবাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দাঁড়িয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
একই পরিবারের চারজন মানুষের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে উপস্থিতদের মধ্যে নেমে আসে শোকের আবহ। বিশেষ করে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের দুই সন্তানের একসঙ্গে প্রাণহানির ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্বজন হারানোর বেদনা যে কতটা গভীর ও অসহনীয়, সেই অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতার মাধ্যমে নিহতদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন সুপ্রভাত মঞ্চের সদস্যরা।
নীরবতা পালনের আগে ও পরে বক্তারা বলেন, একটি পরিবারের চারজন সদস্যের এমন করুণ পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের পরিচয় ও প্রভাব বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষক শুধু একটি পরিবারের অভিভাবক নন, তিনি সমাজেরও একজন আলোকবর্তিকা। গণপতি চক্রবর্তীর মতো একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের পরিবারের এমন পরিণতি সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে একটি পরিবার যেমন নিঃস্ব হয়েছে, তেমনি এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তাঁরা বলেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো প্রকৃত অপরাধী যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে উপস্থিত সদস্যরা বলেন, প্রীয়ম ও আগামী চক্রবর্তীর মতো কোমলমতি ও তরুণ প্রাণের অকালমৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার মতো নয়। তাঁদের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনা নির্মমভাবে থেমে গেছে। আর সেই শোক শুধু পরিবারের নয়—মানবিক বিবেকসম্পন্ন প্রতিটি মানুষের।
এক মিনিট নীরবতা পালনকালে উপস্থিত সদস্যদের অনেকের চোখেমুখে ছিল গভীর বেদনার ছাপ। কেউ কেউ বুকে হাত রেখে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। এ সময় পুরো পরিবেশে নেমে আসে এক হৃদয়বিদারক নীরবতা। সেই নীরবতায় যেন প্রতিধ্বনিত হয় একটি পরিবারের হারিয়ে যাওয়া চারটি প্রাণের স্মৃতি এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি পার্কের সুপ্রভাত ধর্মসাগর পাড় মঞ্চের মুখপাত্র অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, প্রফেসর অনুকূল চন্দ্র দাশ, প্রফেসর মৃণাল কান্তি গোস্বামী, অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, নেপাল চন্দ্র দাশ ও সুজন চন্দ্র সরকারসহ সুপ্রভাত মঞ্চের অন্যান্য সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
এ সময় বক্তারা নিহতদের আত্মার সৎগতি কামনা করে শোকসন্তপ্ত স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত খুনিদের শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান।
তাঁদের প্রত্যাশা—এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য দ্রুত সামনে আসবে, প্রকৃত অপরাধীরা বিচারের মুখোমুখি হবে এবং নিহতদের স্বজনরা অন্তত ন্যায়বিচারের মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবেন।
নীরবতা পালন শেষে নিহত চারজনের আত্মার শান্তি ও সৎগতি কামনা এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের এই অসহনীয় শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি কামনা করে কর্মসূচি শেষ করা হয়।