বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে দুদিন আগেই মারা গেলেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিহাব

গাজী রুবেল।।
ছেলেটি নেই। অথচ তার ফল এসেছে। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন শাহরিয়ার হোসেন শিহাব। যে ফলের খবর পেয়ে পরিবারের সবাই আনন্দে মেতে ওঠার কথা ছিল, সেই ফলই এখন স্বজনদের মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রিয় শিহাবকে হারানোর কথা।

সোমবার (৯ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিহাবের জিপিএ-৫ পাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন স্বজনেরা। ফল প্রকাশের মাত্র দুই দিন আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়েছিল। তাই কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়েও পরিবারের মুখে হাসি নেই।

১৭ বছর বয়সী শিহাব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের মানরা গ্রামের আয়ত আলী মাস্টার বাড়ির মো. তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরে বসবাস করতেন তিনি। ঢাকা বিমান বন্দর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন শিহাব।
দুই সন্তানের মধ্যে শিহাব ছিলেন বড়। তার বাবা তোফাজ্জল হোসেন একটি বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন।

চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন শিহাবসহ তার পরিবার। গত ৮ জুলাই শনিবার ছিল চাচার বৌ-ভাতের অনুষ্ঠান। দুপুরে গোসল শেষে বাড়ির ছাদে গিয়ে ভেজা কাপড় শুকাতে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। ছাদের কার্নিশে কাপড় দেওয়ার সময় ডেকোরেশনে ব্যবহৃত মরিচবাতির তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন শিহাব। একপর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান তিনি।
পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নয়নপুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

শিহাবের চাচা জিয়াউল হক বলেন, শিহাব মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাবে এমন প্রত্যাশা পরিবারের সবারই ছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের দুই দিন আগেই তাকে হারাতে হয়েছে।

তিনি বলেন, শিহাব বেঁচে থাকলে জিপিএ-৫ পাওয়ার খবরটি পরিবারের জন্য অনেক আনন্দের হতো। এখন সেই ফলই তাকে হারানোর কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তার শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।