আল-আমিন কিবরিয়া।।
৮০০ টাকা পরিবহন ফি দিয়েও যাতায়াতের সুবিধা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখার শিক্ষার্থীরা। যথাযথ যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখার প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ভর্তির সময় একজন শিক্ষার্থীকে ৮০০ টাকা পরিবহন ফি দিতে হয়। হিসাব করলে এই পরিবহন ফির অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ। কলেজের বাস রয়েছে ১৩ টি। ডিগ্রি শাখা থেকে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন রুটে বাসগুলো চলাচল করে। এসব বাস কলেজে পৌঁছায় সকাল ৯টায়, আবার কলেজ থেকে ছেড়ে যায় দুপুর আড়াইটায়।
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উচ্চমাধ্যমিক শাখা থেকে ডিগ্রি শাখায় আসতে প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে প্রচুর যানজট থাকে। যে কারণে অনেকেই ডিগ্রি শাখার পরিবহন ব্যবহার করতে পারেন না। কলেজের পরিবহন না পেলে বাড়তি খরচ করে তাদের বাড়িতে পৌঁছাতে হয়। কুমিল্লা নগরী ও জেলার উপশহরগুলোতে কলেজ থেকে মিনিবাসের ব্যবস্থা থাকলে যাতায়াতে সুবিধা হবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
মোহাম্মদ রফসান। তিনি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘উচ্চমাধ্যমিক শাখার জন্য আলাদা বাস দরকার ছিল। যে বাসগুলো শহরের আশপাশে যাতায়াত করবে। উচ্চমাধ্যমিক শাখা থেকে ডিগ্রি শাখায় যেতে যে খরচ হয়, তার সঙ্গে কিছু টাকা যোগ করলে আমরা বাসায় চলে যেতে পারি।’
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম সরকার বলেন, ‘আমাদের জন্য মিনি বাস খুবই দরকার। যে বাস শহরে যাতায়াত করবে। তাহলে আমরা সহজেই কলেজে আসতে পারব। উচ্চমাধ্যমিক শাখার নিজস্ব বাস না থাকায় আমরা ভোগান্তিতে পড়েছি।’
কলেজের পরিবহন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজু আহমেদ বলেন, ‘উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি শাখার জন্য একই বাস। উচ্চমাধ্যমিক শাখার শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি শাখায় এসে যাতায়াত করতে হয়।’
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা বলেন, ‘আমাদের কলেজে ১৩টি বাস রয়েছে। এসব বাস বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। নতুন করে উচ্চমাধ্যমিক শাখার জন্য আলাদা বাস দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে আলোচনা সাপেক্ষে আমরা কিছু মিনিবাসের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করছি। এটি আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।’