তাপস চন্দ্র সরকার।।
ভোরের আলো ফুটতেই মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লা ধর্মসাগর পাড়। সকালের নির্মল বাতাস আর মনোরম পরিবেশে প্রতিদিনই এখানে ছুটে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রফেসর, চাকরিজীবীসহ নানা পেশার মানুষের পদচারণায় সকালবেলায় ধর্মসাগর পাড় হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। কেউ হাঁটেন, কেউ ব্যায়াম করেন, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও সংগীতে মেতে ওঠেন। কর্মব্যস্ত জীবনের নানা চাপ ও ক্লান্তি দূরে রেখে শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে প্রতিদিনের এই আয়োজন যেন তাদের জীবনেরই একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে ‘সুপ্রভাত ধর্মসাগর পাড় মঞ্চ’-এর সদস্যরা নিয়মিত ব্যায়াম ও সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সকালের সময়টুকুকে করে তুলেছেন আনন্দময় ও প্রাণবন্ত। বয়স কিংবা পেশার ভিন্নতা এখানে কোনো বাধা নয়; সুস্থতা, সৌহার্দ্য ও নির্মল আনন্দের জায়গায় সবাই যেন একসূত্রে গাঁথা।
সোমবার সকালেও ছিল তার ব্যতিক্রম নয়। নিয়মিত ব্যায়াম ও সংগীত পরিবেশন শেষে গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ডাবের পানিতে প্রাণ জুড়ান মঞ্চের সদস্যরা।
এদিন ডাবের পানি পান করেন সুপ্রভাত মঞ্চের মুখপাত্র অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, প্রফেসর অনুকূল চন্দ্র দাস, এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, নেপাল চন্দ্র দাস ও গৌতম দাস। শরীরচর্চার পর টাটকা ডাবের পানি যেন মুহূর্তেই ফিরিয়ে দেয় সতেজতা, দূর করে ক্লান্তি। ডাবের পানির সঙ্গে সঙ্গে সদস্যদের মধ্যে জমে ওঠে হাসি-আড্ডা ও প্রাণের আলাপচারিতা। শুধু ব্যায়াম কিংবা হাঁটা নয়, ‘সুপ্রভাত’ মঞ্চের সকালের আয়োজনে রয়েছে সংগীতচর্চা ও নাস্তারও ব্যবস্থা। একেকদিন একেক ধরনের নাস্তা করা হয়। ফলে শরীরচর্চার পর সবাই একসঙ্গে বসে নাস্তা করেন, গল্প করেন এবং নিজেদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এতে গড়ে উঠেছে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের এক সুন্দর পরিবেশ। ধর্মসাগর পাড়ে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছেও সকালের হাঁটা ও ব্যায়াম এখন যেন দৈনন্দিন জীবনের একটি স্বাভাবিক অভ্যাস। কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার আগে অনেকেই সময় বের করে এখানে হাঁটেন। কেউ দীর্ঘক্ষণ হাঁটেন, কেউ হালকা ব্যায়াম করেন, আবার কেউ পরিচিতজনদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে ফিরে যান নিজ নিজ কর্মস্থলে।
ফলে ধর্মসাগর পাড় শুধু বিনোদন কিংবা অবসর কাটানোর স্থান নয়, অনেকের কাছে এটি হয়ে উঠেছে শরীরচর্চা ও মানসিক প্রশান্তির অন্যতম জায়গা। এদিকে ধর্মসাগর পাড়ে ডাব বিক্রেতা বলেন, প্রতিদিন যারা হাঁটতে কিংবা ব্যায়াম করতে আসেন, তাদের অনেকেই ডাবের পানি পান করেন। গরমের দিনে ডাবের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। মান ও আকারভেদে প্রতিটি ডাব ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেন বলে জানান তিনি। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধর্মসাগর পাড়ে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। কেউ শরীরচর্চা শেষে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউ ডাবের পানি পান করছেন, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠেছেন। সব মিলিয়ে কর্মব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও ধর্মসাগর পাড়ে সকালের এই সময়টুকু যেন মানুষের জন্য এনে দেয় স্বস্তি ও প্রশান্তি।
‘সুপ্রভাত ধর্মসাগর পাড় মঞ্চ’-এর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একই জায়গায় মিলিত হচ্ছেন, তৈরি হচ্ছে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের পরিবেশ। শরীরকে সচল রাখার পাশাপাশি সংগীত ও পারস্পরিক আড্ডার মাধ্যমে মনকেও প্রফুল্ল রাখছেন তারা। ধর্মসাগরের নির্মল পরিবেশ, সকালের মিষ্টি বাতাস, হাঁটা ও ব্যায়ামের ছন্দ, সংগীতের সুর, বন্ধুদের হাসি-আড্ডা এবং শরীরচর্চার পর ডাবের পানির সতেজতা—সব মিলিয়ে প্রতিদিনের সকাল এখানে হয়ে ওঠে অন্যরকম।
ব্যস্ত জীবনের মাঝে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেওয়া এসব মানুষের এই অভ্যাস যেন একটি সুন্দর বার্তাই দেয়—সুস্থ শরীরের জন্য নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়ামের পাশাপাশি প্রয়োজন নির্মল পরিবেশ, আনন্দ ও মানুষের সঙ্গে মানুষের আন্তরিক সম্পর্ক। আর সেই সুস্থতা ও আনন্দের প্রত্যয় নিয়েই প্রতিদিন ভোরে ধর্মসাগর পাড়ে জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।