নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় সিঁদুরের রঙ দিয়ে মরিচ গুঁড়ো লাল করার অভিযোগ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও পচা মরিচ মিশিয়ে মসলা তৈরির অভিযোগে মসলার মিলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লা।
আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার দুর্গাপুরের বারপাড়া এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, বারপাড়া এলাকার ‘আরমান মসলার মিল’-এ আকস্মিক পরিদর্শনে যান ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, মিলটিতে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হলুদ ও মরিচ গুঁড়ো সংরক্ষণ এবং ভাঙানো হয়।
মরিচের সাথে নষ্ট ও পোকায় খাওয়া মরিচ মেশানো হচ্ছিল এবং মসলার রঙ আকর্ষণীয় করতে তাতে কাপড়ে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ সিঁদুর রঙ মিশ্রণ করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
ভোক্তা অধিকার বিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ‘আরমান মসলার মিল’কে নগদ ১,০০,০০০/- (এক লাখ) টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। একই সাথে রঙ মেশানো ক্ষতিকর মরিচের গুঁড়ো পানি দিয়ে এবং নষ্ট ও পোকায় খাওয়া মরিচগুলো পার্শ্ববর্তী ডোবায় ফেলে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটিকে মুচলেকা নিয়ে এবং দুর্গাপুর মার্কেট কমিটির জিম্মায় দিয়ে নিজেদের সংশোধন করার সুযোগ দেয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মোঃ কাউছার মিয়া জানান, “খাবারে বিষাক্ত রঙ ও পচা উপাদানের মিশ্রণ মানবদেহের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। জনস্বার্থে ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের এই চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযান পরিচালনাকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি টিম, দুর্গাপুর মার্কেট কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং ভোক্তা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।