আহনাফ তিহামী, দাউদকান্দি।।
কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার একটি কক্ষের দরজা ভাঙা ও ভেতরে প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থানায় আটক ১৭ কিশোর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি জানাজানি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাউদকান্দি মডেল থানার একটি কক্ষের ভেতরে প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙা এবং দরজার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে ‘কুমিল্লার কাগজ’ নামের একটি ফেসবুক পেজেও ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, থানায় ভাঙচুর করে আটক কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্য পালিয়ে গেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ২৮ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের থানার একটি বিশেষ কক্ষে রাখা হয়। রাতে ওই কক্ষে থাকা কয়েকজন দরজা ভেঙে বের হয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় কক্ষের ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের চেয়ারও ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ, অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, থানায় ভাঙচুর বা আটক কিশোর পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। একটি প্লাস্টিকের চেয়ার উল্টে গিয়েছিল মাত্র, এর বেশি কিছু নয়।
ওসি বলেন, অভিযানে মোট ২৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের যাচাই-বাছাই শেষে নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
থানায় ভাঙচুর ও আটক ১৭ জনের পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যা দেখা যাচ্ছে এবং পুলিশের বক্তব্য দুই পক্ষের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।