ডেস্ক রিপোর্ট।।
ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্কিত বক্তব্য ও হুমকিমূলক মন্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন হাফেজ কারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে চুমু দেওয়ার প্রস্তাবের অভিযোগে এক শিক্ষককে শিশুটির বাবা চড় মারার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া লাইভে তাশরীফ ওই শিক্ষককে মারধরের ঘটনার সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মারধরের হুমকি দেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, তাঁকে এভাবে মারার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা করলেও তাঁর রাগ মিটত না।
পরদিন আরেকটি লাইভে তাশরীফ বলেন, ওই শিক্ষক অপরাধী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে তিনি দাবি করেন, টঙ্গীর ঘটনায় শিক্ষককে মারধরের পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। একই সঙ্গে আইনকে শ্রদ্ধা করার কথাও বলেন তিনি।
২৪ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে তাশরীফ বলেন, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত। একজনের অপরাধের কারণে পুরো মাদ্রাসা ভাঙচুর করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় নিজের প্রসঙ্গ টেনে শিশুদের চুমু দেওয়ার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাল্টা হুমকি দেন।
এর আগে এক ফেসবুক পোস্টে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে খারাপ উদ্দেশ্য ছাড়া চুমু দেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করেন তাশরীফ। তাঁর এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
আগেও বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগ
এর আগেও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক ঘটনায় তাশরীফের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তাঁর একটি লাইভ বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। পরে তিনি ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া নেত্রকোনায় এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দেওয়া বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এসব ঘটনায় তাঁর বক্তব্যের ধরন নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে।
সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন ব্যক্তি
টঙ্গীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাশরীফের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। ২৪ অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি তাশরীফের বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, তাশরীফের বক্তব্যে ভুক্তভোগী শিশুর বাবাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সংগীতশিল্পী শেখ সোলায়মানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাশরীফের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের বক্তব্য উত্তেজনা ছড়িয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
তাশরীফের বক্তব্য জানতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কে এই হাফেজ তাশরীফ?
হাফেজ কারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের জন্ম গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সিটপাড়া গ্রামে। শ্রীপুরের ফরিদপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসায় তাঁর পড়াশোনার হাতেখড়ি। ছোটবেলা থেকেই কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামি সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বর্তমানে ওয়াজের বক্তা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তাঁর।
তাশরীফ আত-তাশরীফ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ঢাকার তুরাগ এলাকার মুহাম্মাদিয়া জামে মসজিদে খতিবের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিকভাবেও যুক্ত রয়েছেন তাশরীফ। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বরমী ইউনিয়ন শাখার সহসভাপতি। ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
তাশরীফের বক্তব্য সমর্থন করে না দল
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাশরীফের এ ধরনের বক্তব্য সমর্থন করে না বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন। তাঁর ভাষ্য, তাশরীফ সংগঠনে নতুন যোগ দিয়েছেন এবং তাঁর বক্তব্য ব্যক্তিগত। দল এ ধরনের বক্তব্য সমর্থন করে না। তাশরীফকে সতর্ক করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সূত্র: এশিয়া পোস্ট