ইনানীতে গ্যাসের আগুন: ১৪৪ ধারা জারি, বিদ্যুৎহীন ৮-৯ হাজার গ্রাহক

ডেস্ক রিপোর্ট।।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পর্যটন এলাকা ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন দেড় দিনের বেশি সময় ধরে জ্বলছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করলেও গ্যাসের উচ্চচাপের কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনাস্থলের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ৮ থেকে ৯ হাজার গ্রাহক।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত আগুন অব্যাহত রয়েছে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছে, আপাতত গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ না করে জোরপূর্বক আগুন নেভানোর চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, ভূগর্ভ থেকে গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগুন আরও সাত থেকে ১৫ দিন জ্বলতে পারে। তবে গ্যাসের চাপ, নির্গমনের পরিমাণ ও ভূগর্ভস্থ গ্যাসের স্তরের অবস্থা পরীক্ষা করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইনানীর ছোট খাল সেতুসংলগ্ন একটি আবাসিক এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য খননকাজ চলছিল। প্রায় এক হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত খননের পর ভূগর্ভ থেকে উচ্চচাপে গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় গত মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে তাদের তৎপরতা বন্ধ রাখা হয়। পরে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুর আরহাম জানান, ভূগর্ভের যে স্তর থেকে গ্যাস বের হচ্ছে, সেই স্তরের গ্যাসের মজুত শেষ হলে আগুন স্বাভাবিকভাবেই নিভে যেতে পারে। তবে গ্যাসের প্রবাহ চলমান অবস্থায় জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে ভূগর্ভের অন্য কোনো ফাটল বা দুর্বল স্তর দিয়ে গ্যাস বের হয়ে নতুন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আগুনের ঝুঁকি বিবেচনায় ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ মিটার এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করার পরামর্শ দিয়েছে বাপেক্স। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে নির্ধারিত এলাকায় জনসমাগম ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

আগুনের তাপ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে বৈদ্যুতিক লাইন সুরক্ষিত রাখতে মেরিন ড্রাইভের মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) কায়সার নূর জানান, আগুন বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে লেগে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ৪৫টির বেশি রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার গ্রাহক দুর্ভোগে পড়েছেন। বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা চলছে।

এদিকে আগুনের কারণে মেরিন ড্রাইভ থেকে উখিয়ার ইনানী ও কোটবাজারে যাতায়াতের সড়কে যান চলাচলও সীমিত রাখা হয়েছে। এতে পর্যটন ব্যবসা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচলে প্রভাব পড়েছে।