তাছকিয়া রহমান প্রতিভা, দেবীদ্বার।।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে সীমাহীন অনিয়মের অভিযোগে একটি সড়ক নির্মান কাজ বন্ধ রেখে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রের শর্তানুযায়ী সড়ক নির্মান কাজ সম্পাদনে নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।
স্থানীয়দের অভিযোগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এলজিইডির অধীনে চলমান একটি সড়ক উন্নয়ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে যেয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পেয়ে তিনি ওই নির্দেশনা দেন।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া ‘সুবিল ইঞ্জিনিয়ার সুজনের বাড়ি ভায়া সেলিম ও তাহের পুলিশের বাড়ির সড়ক উন্নয়নে’ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)’র তত্বাবধানে ০.৪৫০ কি.মি. সড়ক নির্মানে প্রায় ৬২ লক্ষ টাকা প্রাক্কলন ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সুমি এন্টার প্রাইজ’র নামে মো. মোসলেম উদ্দিন মানিক ভূঁইয়া কাজটি পান। কাজটি শুরু করে দির্ঘদিন ফেলে রাখার পর প্রায় দু’মাস পূর্বে কাজটি শুরু করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী জানান, সড়ক সংস্কারে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইউএনও মহোদয়কে নিয়ে নির্মাণাধীন সড়ক পরিদর্শনে যাই। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগে কাজ বন্ধ রেখে দরপত্রের শর্তানুযায়ী কাজটি সম্পাদন করার নির্দেশ দিয়ে আসি।
তিনি আরো জানান, পরিদর্শনকালে রাস্তার কাজে বেশ কিছু গুরুতর অসংগতি ও ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে, কয়েকটি স্থানে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, যথাযথভাবে রোলিং না করা এবং পিচ ঢালাইয়ের পূর্ববর্তী বিটুমিনের প্রাইম কোট নিয়ম অনুযায়ী যথাযথভাবে প্রয়োগ না করার বিষয়টি আমাদের নজরে আসায়, দায়ীত্বরত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সম্পন্ন করা সড়কের অংশ অনতিবিলম্বে অপসারণ করে মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করে পুনরায় কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেই। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ প্রাইম কোট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না মর্মে জানিয়ে, যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়া ও নিয়ম অনুসরণ করে নতুন করে প্রাইম কোট প্রয়োগের নির্দেশ দিয়ে আসি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাতের অন্ধকারে সড়কের নিম্নমানের সামগ্রী না সরিয়ে এবং রোলিং না করে কার্পেটিং এর কাজ শুরু করে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যেয়ে কার্পেটিং বন্ধ রেখে, যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়া ও নিয়ম অনুসরণ করে নতুন করে প্রাইম কোট প্রয়োগের নির্দেশ দিয়ে আসি।
তিনি আরো জানান, সড়কে নিম্নমানের সামগ্রীর নয়, বিটুমিনের প্রলেপন ছিল খুবই নিম্নমানের। কোনধরনের রোলিং করা হয়নি, ফলে গাড়ির চাকা দেবে যাওয়াই নয়, মানুষের পায়ের চাপে রাস্তা দেবে যাচ্ছিল, পায়ের ঘষায় রাস্তা খুড়ে যাচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করে, পুরনো আস্তর সরিয়ে নতুন করে কংক্রিট ও বিটুমিন দেয়ার ২৪ ঘন্টা পর কার্পেটিং এর পরামর্শ দিয়ে আসার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই অর্থাৎ শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে সংবাদ পাই, নির্দেশনা অমান্য করে রাতেই কার্পেটিং এর কাজ শুরু করে। পরে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেই।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার হাজী মোসলেম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এ কাজটিতে অনেক লস হয়েছে। সড়কের কিছু অংশ পুকুর পাড়ে ছিল। পুকুরপাড়ে গার্ড ওয়াল দরপত্রে ধরা ছিলনা। তাই সেই অংশে রোলিং করলে সড়কের অংশ পুরের দিকে দেবে যায়। কার্পেটিং এর জন্য তৈরী করা সামগ্রীগুলো নষ্ট হলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীন হতে হবে, তাই সড়কের কিছু অংশে রোলিং করে রাতেই কার্পেটিং এর কাজ করছিলাম। ইউএনও মহোদয় গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।