দেবিদ্বারে ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

ডেস্ক রিপোর্ট।।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সরকারি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় নারীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মহিউদ্দিন সরকার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মধুমুড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা ও সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী বলে জানা গেছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর শ‌নিবার দুপু‌রে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মহিউদ্দিন সরকার ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন ফরম দেওয়ার কথা বলে প্রথম দফায় জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে আদায় করেন। পরে কার্ড পাইয়ে দেওয়ার শর্তে আরও ২ হাজার টাকা দাবি করেন। এভাবে মধুমুড়া গ্রামের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা। তবে স্থানীয়দের ধারণা, ভুক্তভোগীর সংখ্যা ৩০ ছাড়াতে পারে।

ভুক্তভোগী সুমি বেগম বলেন, মহিউদ্দিন ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৩০০ টাকা নিয়েছেন। কার্ড পেলে আরও ২ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও জানিয়েছেন। তিনি মধুমুড়া গ্রা‌মের অটোচালক সবুজ মিয়ার স্ত্রী।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী হোস‌নেয়ারা বেগম, শফিক মিয়ার স্ত্রী দে‌লোয়ারা বেগম, গিয়াস মিয়ার স্ত্রী শা‌হিনা বেগম, রফিক মিয়ার স্ত্রী সা‌বিনা আক্তারসহ অ‌নে‌কে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, মহিউদ্দিন ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীর প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকলেও পরে কোনো দায়িত্ব পাননি। কিন্তু তিনি নিজেকে তথ্য সংগ্রহকারী পরিচয় দিয়ে এবং ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে গ্রামের নারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

এ বিষয়ে গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের সুপারভাইজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। নিবন্ধন বা কার্ড পাওয়ার জন্য কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ এই কর্মসূচির নামে টাকা নিলে তা প্রতারণা এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন সরকার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের সত‌্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানার পরপরই সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ই‌তিম‌ধ্যে ভুক্ত‌ভোগী‌দের টাকা ফেরত দেয়া হ‌য়ে‌ছে। প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হ‌বে।