আহনাফ তিহামী, দাউদকান্দি প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বারপাড়া গ্রামে পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমি এবং পুকুর জোরপূর্বক দখল, গাছ কেটে নেওয়া, মাছ লুট ও একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করার অভিযোগ তুলেছেন ইতালিপ্রবাসী শমসের আফানুর সুমন চৌধুরী। এ ঘটনায় সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে দখলদারত্ব ও হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শমসের আফানুর সুমন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইতালিতে বসবাস করছেন। প্রবাসে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি দেশে বৈধভাবে সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৭০ সালে তাঁর মা জুবেদা খাতুন (পিতা মৃত আমিন উদ্দিন মুন্সী) ওয়ারিশসূত্রে ১৪০ শতক জমির মধ্যে ১১৪ শতক জমির মালিক হন। এর মধ্যে বারপাড়া মৌজায় ৬৮ শতক এবং সাতপাড়া মৌজায় ৪৬ শতক জমি রয়েছে।
তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে তাঁর মা ওই জমি তাঁর ভাসুরের কাছে বিক্রি করেন। পরে ১৯৮৭ সালে সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে পুনরায় ওই সম্পত্তির মালিকানা ফিরে পান। এরপর ২০১৩ সালে ৭৯ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি নিজেই আইনানুগভাবে ওই সম্পত্তি ক্রয় করেন বলে দাবি করেন।
সুমন চৌধুরীর অভিযোগ, বৈধভাবে জমির মালিকানা অর্জন করলেও প্রবাসে থাকার সুযোগে তাঁর নানাবাড়ির কয়েকজন সদস্য আক্তারুজ্জামান মিন্টু, মনিরুজ্জামান মানিক, মাহফুজা আক্তার বকুল ও নাসরীন আক্তার সিপনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর জমি ও পুকুর জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করছেন। এমনকি পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যাওয়া এবং জমির গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, এলাকার জমির দাম বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। তাঁর মামাতো ভাইয়েরা একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশ করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন বলে তাঁর অভিযোগ। দেশে ছুটিতে এলে তাঁকে, তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। এসব মামলার মাধ্যমে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাসের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে কয়েকজন ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে সাক্ষী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে আনুমিয়া (দুর্গাপুর), লিটন মিয়া (দুর্গাপুর), ইব্রাহীম মিয়াজী (বারপাড়া), রিপন মিয়া (কানরা) এবং আমির হোসেনের নাম উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আমির হোসেন একটি মামলার বাদী এবং অন্য একটি মামলার সাক্ষী হয়েছেন। এসব ঘটনা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
সুমন চৌধুরী বলেন, আমি কারও এক ইঞ্চি সম্পত্তি জোর করে দখল করতে চাই না। আমি শুধু আমার রক্তার্জিত অর্থে বৈধভাবে কেনা জমি ও পুকুরের পূর্ণ অধিকার এবং নিরাপত্তা ফিরে পেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, জমির দলিল, বৈধ কাগজপত্র, আদালতের প্রয়োজনীয় নথি এবং অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন প্রমাণাদি তাঁর কাছে রয়েছে। এসব নথি যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা যাচাই, কথিত দখলদারত্ব ও হয়রানি বন্ধ এবং তাঁর পরিবারের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান শমসের আফানুর সুমন চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ ভূমিকা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।