দেবীদ্বারে গোমতী নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত, বাড়বে মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য

তাছকিয়া রহমান প্রতিভা,দেবীদ্বার।।
কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী গোমতী নদীতে উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় দেবীদ্বার মৎস দপ্তরের উদ‍্যোগে গোমতী নদীর দেবীদ্বার অংশের শিবনগর ব্রীজ সংলগ্নে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত তরা হয়।

এ ছাড়াও দিনব‍্যাপী গোমতী নদী ছাড়াও কাচারি পুকুর, থানা পুকুর, দেবীদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ‍্যালয় পুকুর, উপজেলা পরিষদ পুকুর, সরকারি শিশু পরিবারের পুকুর, কাচিসাইর আশ্রায়ন প্রকল্পের পুকুর, রাধানগর আশ্রায়ন প্রকল্পের পুকুর, জাফরাবাদ আশ্রায়ন প্রকল্পের পুকুরে প্রায় ৩ শত কেজি বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়স উদ্দিন, উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা, উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান নাফি, উপজেলা উপজেলা সহকারি পল্লী উন্নন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নোমান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সঞ্জিত চক্রবর্তী, মো. রফি উদ্দিন, মো. আলী হোসেন প্রমূখ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, আজ গোমতী নদীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাছের পোনা অবমুক্তির ফলে নদী-নালা ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য সম্পদ যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এটি বড় ভূমিকা পালন করবে। পোনা মাছ অবমুক্ত করার এই ক্ষণটি যেন জলজ প্রাণীর এক অনন্য মুক্তির আনন্দ নিয়ে এসেছে। খাঁচাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মাছগুলো এখন নদীর বিশাল জলরাশিতে ডানা মেলার সুযোগ পেল। তারা এখন সারা দেশের নদী ও খাল-বিলে স্বাধীনভাবে সাঁতার কেটে, ঘুরেফিরে বেঁচে থাকার এক নতুন স্বাধীনতা উপভোগ করবে। তিনি আরো বলেন, নদীমাতৃক এই দেশের মৎস্য সম্পদকে সমৃদ্ধ করতে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অব‍্যাহত রাখা প্রয়োজন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মতর্তা প্রিয়াংকা সাহা বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে স্থানীয় জেলেদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। তবে এই পোনামাছগুলো যেন বড় হওয়ার আগেই কেউ কারেন্ট জাল বা ক্ষতিকর পদ্ধতিতে শিকার না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তারা।