ডেস্ক রিপোর্ট।।
আগামী বছরের বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের বিতর্কের জেরে ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বই থেকে দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দিয়ে নতুন করে বই ছাপানো হচ্ছে। এ জন্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে নতুন করে বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তরের ধারণা বোঝাতে একটি পিরামিডের চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইংরেজিতে ‘ডেটা’, ‘ইনফরমেশন’, ‘নলেজ’ ও ‘উইজডম’—এই চারটি স্তরের মধ্যে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা হয়।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে ‘উইজডম’-এর বাংলা হিসেবে ‘বুদ্ধি’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল। তখন এর প্রতীক হিসেবে মানুষের অবয়বের ভেতরে পরমাণুর মডেল দেখানো হয়। কিন্তু ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সংস্করণে শব্দটি পরিবর্তন করে ‘প্রজ্ঞা’ লেখা হয় এবং প্রতীক হিসেবে যুক্ত করা হয় দাঁড়িপাল্লা। এ নিয়েই রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের বিতর্ক শুরু হয়।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফখরুল মাওলা বলেন, পাঠ্যক্রমে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই আগের সংস্করণের বাইরে নতুন কোনো চিত্র যুক্ত হওয়ার কথা নয়।
তবে আইসিটি বইয়ের ছবিগুলো পেশাদার শিল্পীদের দিয়ে নতুন করে আঁকানোর বিষয়ে একটি অফিস আদেশ ছিল। এ কাজ তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এনসিটিবির গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে। পরে তাঁকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়।
আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের বলেন, প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল নয়। বই তৈরির সময় রাজনৈতিক কোনো দৃষ্টিভঙ্গি তাঁদের বিবেচনায় ছিল না বলেও জানান তিনি।
বইটি সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজে বেসরকারি আইসিটি এডুকেশন ফাউন্ডেশনের প্রধান মজিবুর রহমানসহ আরও আটজন যুক্ত ছিলেন। পুরো প্রক্রিয়ায় এনসিটিবির প্রায় ২০ কর্মকর্তা পাঁচটি ধাপে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বইয়ের চিত্র ও ইলাস্ট্রেশন তৈরির দায়িত্বে থাকা খণ্ডকালীন শিল্পী সাইম আহম্মেদ জানান, অনলাইন থেকে পাওয়া একটি ‘নলেজ পিরামিড’-এর ছবি অনুসরণ করে তিনি প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার চিত্র ব্যবহার করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসারেই কাজগুলো জমা দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
এদিকে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছবির ব্যবহার নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী বছরের বইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি রাখা হবে কি না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
পাঠ্যবইয়ে কোনো প্রতীক বা ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে শিক্ষাগত প্রাসঙ্গিকতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।