আত্মহ*ত‍্যা করতে দেয়নি বলে ইমন তার মাকে গ*লাকে*টে এবং ভাতিজিকে আছরে হ*ত‍্যা করে

তাছকিয়া রহমান প্রতিভা, দেবীদ্বার।।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ইমন মিয়া নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মা’কে কুপিয়ে খুণ ও ভাতিজিকে আছরে হত‍্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাঁধা দিতে এসে ভাবী রাবেয়া বেগম(২০)কে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়। আহত রাবেয়া বেগমকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাবেয়া বেগম ঘাতক ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার স্ত্রী।

ঘটনাটি ঘটে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় উপজেলার ১নং বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে।

স্থানীয়রা ঘাতক ইমন মিয়া(২৬)কে গণপিটুনি দিয়ে আটক করে রাখে, পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

নিহতরা হলেন ঘাতক ইমন মিয়ার মা’ ও মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী পিয়ারা বেগম(৬৫)। অপর নিহত ৮ মাস বয়সী ইসরাত জাহান ঘাতক ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে।

ঘাতক ইমন মিয়া (২৬) বড়শালঘর গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্হানীয়রা জানান, ইমন মিয়া নামে এক যুবক পায়ের ব‍্যাথার যন্ত্রণা থেকে নিস্ক্রিয় পেতে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে, মা বাঁধা দিলে, মা’কে দা’দিয়ে কুপিয় গলা কেটে এবং ভাতিজিকে আছরে হত‍্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তারা আরো জানান, ৪/৫ বছর পূর্বে ইমন ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পায়। ২/৩ বছর পূর্বে প্রথমবার অপারেশন করার পরেও পায়ের ব্যাথা বন্ধ হয়নি। গত সোমবার ফের এলাকাবাসী মাধ্যমে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব‍্যয়ে পায়ের অপারেশন করানো হয়। গতকাল বিকেলে হসপিটাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাড়িতে ফিরে। কিন্তু পায়ের ব্যাথা বন্ধ হয়নি। পায়ের ব্যাথা নিয়ে সকালে আত্নহত্যার চেষ্টাকালে তার মা বাঁধা দেয়। মায়ের হাতে দা’ তুলে দিয়ে বলে মা’ তুমি আমাকে হত‍্যা করো। বাবা তুই সুস্মাথ‍্য হয়ে যাবি বলে পুত্রকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করলে পুত্র মায়ের হাত থেকে দা’ ছিনিয়ে নিয়ে কুপিয়ে গলা কেটে হত‍্যা করে। এ সময় ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম তার ৮ মাস বয়সের মেয়ে ইসরাত জাহানকে কোলে নিয়ে দৌড়ে আসলে তাকেও কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। কোলের শিশুর মাথায়ও আঘাত লেগে কোল থেকে ছিটকে পড়লে তাকে তুলে এনে আছরে হত‍্যা করে।
তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা বিষয়টি জানার পর আহত রাবেয়াকে হসপিটালে নিয়ে যায়। ঘাতক ইমনকে ঘরবন্দী করে।

এবিষয়ে আটক ঘাতক মোঃ ইমনের সাথে কথা বললে জানান, আমার মাথা ঠিক ছিলনা। মাকে বলেছি আমাকে মেরে ফেল, তিনি না মারায় আমি তাকে কুপিয়েছি। আমার মা এখন কই ?বলে নিজেও জানতে চান। ভাবি ও বাতিজীকে মারার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে বলেন আমার মাথা ঠিক ছিলনা আমি কিছুই জানি না।

এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘাতক ইমনকে জনগন আটক করে পুলিশে সোপার্দ করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে বলেন, মাকে বলেছি আমাকে মেরে ফেল। তিনি না মারায় আমি নিজেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছি। ভাবি বাঁধা দিতে আসলে তাকেও লাঠি দ্বারা আঘাত করা কথা স্বীকার করে। পরে ভাবির কোলে থাকা শিশুটিকে আছাড় দিয়ে হত্যা করে বলে জানান।।