তাপস চন্দ্র সরকার।।
ভক্তি, বিশ্বাস, আত্মশুদ্ধি আর পরমপুরুষের চরণে নিজেকে সমর্পণের এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহে মুখরিত হয়ে উঠেছে কুমিল্লার মহেশাঙ্গণ। পরমপুরুষ ত্রিকালদর্শী পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার আদেশ ও আধ্যাত্মিক নির্দেশনা অনুসরণ করে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী রাখের উপবাস ও ঘৃতপ্রদীপ প্রজ্বালন ব্রত ২০২৬।
প্রতি বছর কার্তিক মাসের ১৫ তারিখের পর থেকে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার লোকনাথ ভক্ত ও অনুসারীরা গভীর নিষ্ঠা, ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করেন এ ব্রত। উপবাসের কঠোরতা, প্রার্থনার পবিত্রতা আর ঘৃতপ্রদীপের স্নিগ্ধ আলোয় ভক্তরা পরম করুণাময়ের কাছে নিজেদের মনের আকুতি নিবেদন করেন। তাঁদের বিশ্বাস, এই ব্রত শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তি, মঙ্গল কামনা ও বাবার প্রতি অগাধ ভালোবাসা প্রকাশের এক পবিত্র মাধ্যম।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের মতো এবারও কুমিল্লার মহেশাঙ্গণে শ্রীশ্রী লোকনাথ স্মৃতি তর্পণ সংঘ ও লোকনাথ যুব সেবা সংঘের যৌথ আয়োজনে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে রাখের উপবাস ও ঘৃতপ্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচি।
প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে মহেশাঙ্গণের পবিত্র প্রাঙ্গণ। ভক্তদের প্রার্থনা, ধর্মীয় আবেগ ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব অনুভূতি। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ছুটে আসা লোকনাথ ভক্ত ও অনুসারীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল। বাবার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসার টানে সহস্রাধিক ভক্তের এই সমাগম যেন পরিণত হয় ভক্তি ও সম্প্রীতির এক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহেশাঙ্গণ শ্রীশ্রী লোকনাথ স্মৃতি তর্পণ সংঘের সভাপতি ননী গোপাল পাল, সাধারণ সম্পাদক হারাধন ভৌমিক, রাখের ব্রত ও প্রদীপ প্রজ্বালন উদযাপন উপকমিটির আহ্বায়ক স্বপন কুমার দাশ এবং সদস্যসচিব সুদেশ দেবনাথসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও ভক্ত-অনুসারীরা।
আয়োজকরা জানান, লোকনাথ বাবার আদর্শ, শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে এ ধর্মীয় আয়োজন পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে সমবেত হন। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভক্তদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হয়।
রাখের উপবাস আর ঘৃতপ্রদীপের আলোয় মহেশাঙ্গণে যেন বারবার উচ্চারিত হয় ভক্তির চিরন্তন বাণী। প্রতিটি প্রদীপের শিখায় মিশে থাকে বিশ্বাসের দীপ্তি, প্রতিটি প্রার্থনায় থাকে জীবনের মঙ্গল কামনা আর প্রতিটি ভক্তের হৃদয়ে জাগ্রত থাকে শ্রীশ্রী লোকনাথ বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
ধর্মীয় আবহ, আধ্যাত্মিক অনুভূতি আর ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মহেশাঙ্গণের এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে—বিশ্বাসের টানে, ভক্তির বন্ধনে মানুষ আজও একত্রিত হয় একই পবিত্র প্রাঙ্গণে।