ডেস্ক রিপোর্ট।।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারকে ওএসডি করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে বদলির প্রজ্ঞাপন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেয়া হয়। এ আদেশের পর থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ওএসডি হওয়া অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য শুরু করেছে ছাত্র সংগঠনের নেতারাও।
ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি উমর ফারুক মানিক ও সিনিয়র সহসভাপতি মো. ওমর ফারুকও।
ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, অতীত ভূমিকা ও পদায়ন নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন ছাত্রদল নেতারা। পোস্টে তাকে আওয়ামী লীগের ছাত্র ক্যাডার হিসেবে উল্লেখ করে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির অবৈধ অর্থের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক মানিক। পাশাপাশি জুলাইয়ের শহীদ আনাসকে নিয়ে পাঠ্যবইয়ে প্রকাশিত গল্প থেকে জুলাই ও আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ বাদ দেওয়ার পেছনেও তার ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিবের পদ থেকে ওএসডি করার পর অধ্যাপক কামাল হায়দারকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে পদায়ন করা হয়েছে। তবে তাঁকে কলেজে যোগদান করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন ছাত্রদল সভাপতি।
একই সঙ্গে অধ্যাপক কামাল হায়দারকে দ্রুত অপসারণ করে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান এই নেতা।
এদিকে ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুক বলেন, আমরা কোন ফ্যাসিস্টের দোষরকে সমর্থন করতে পারিনা। তারা শিক্ষক হওয়ার নৈতিক অধিকার ক্ষুন্ন করেছেন। তারা আদর্শ বিচ্যুত হয়ে দলীয় শিক্ষকে রূপ দিয়েছেন নিজেদের। সাধারণ নাগরিক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে তাকে কলেজে জায়গা দিলে।
এই বিষয়ে কথা বলতে অধ্যাপক এ এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল না ধরায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।