তিতাসে প্রবাসীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম, থানায় লিখিত অভিযোগ

আহনাফ তিহামী,দাউদকান্দি-তিতাস।।
কুমিল্লার তিতাসে পূর্ববিরোধের জেরে খোরশেদ আলম (৪২) নামের এক প্রবাসীকে লাঠিসোঁটা, লোহার রড, পাইপ ও চাপাতি দিয়ে হামলা করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর ছেলেকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

খোরশেদ আলম তিতাস উপজেলার কাপাশকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খোরশেদ আলম, একজন প্রবাসী এবং বর্তমানে ছুটিতে দেশে অবস্থান করছেন। কয়েক দিন আগে ছেলে-মেয়ে সংক্রান্ত একটি মামলায় তিতাস থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। পরে গত ৩ আগস্ট তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।

খোরশেদের দাবি, ওই মামলাটি মিথ্যা। তাঁর অভিযোগ, তৃতীয় অভিযুক্তের বোনের মেয়েকে তাঁদের এক আত্মীয়ের ছেলে জোর করে নিয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় এবং তাঁদের বিয়ে হয়। এরপরও তাঁকে ওই ঘটনায় মামলায় আসামি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর খোরশেদ তৃতীয় অভিযুক্তকে তাঁর বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়েছে, তা জানতে চান। এ সময় অভিযুক্তরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ আগস্ট দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে তিতাস উপজেলার কাপাশকান্দি গ্রামের কাপাশকান্দি স্কুলের পেছনে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে খোরশেদকে একা পেয়ে অভিযুক্তরা এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজন তাঁর ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার রড, লোহার পাইপ, দা ও চাপাতি ছিল। একপর্যায়ে প্রথম অভিযুক্তের হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে খোরশেদের মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাবাকে মারধর করতে দেখে তাঁর ছেলে এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে অভিযোগ করেন খোরশেদ। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত খোরশেদকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর ছেলেকেও স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শাহিন (২০), পারভেজ (১৮), গোহেনা বেগম (৩৫), তৌহিদ (৩৫) ও সুমি (৫২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিতাস থানার ওসির কাছে আবেদন জানিয়েছেন খোরশেদ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খোরশেদ আলম ও তাঁর লোকজনই তাঁদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধর করেছেন। এতে তাঁদের পরিবারের তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।