দেবিদ্বারে একাধিক মামলার আসামির দাপটে অতিষ্ঠ বৃদ্ধা আ‌মেনার পরিবার

দেবিদ্বার প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ধলাহাস গ্রামে একটি অপরাধপ্রবণ পরিবারের হামলা, মামলা, জমি দখল ও নানা অপকর্মে চরম অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বৃদ্ধা আ‌মেনা বেগম (৬০) এর পরিবার। দখল, মাদক কারবার ও মাছ চুরিসহ একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত চক্রটির দৌরাত্ম্য না কমায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধলাহাস গ্রামের মৃত চান মিয়া মুন্সীর ছেলে মো. কবির হোসেন এবং তার দুই ছেলে টিটু ও মিঠু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। অতীতে বিগত সরকারের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে পার পেলেও, পট পরিবর্তনের পরও তাদের অপকর্ম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।

​সরেজমিনে ধলাহাস গ্রামে গিয়ে জানা যায়, প্রতিবেশী প্রবাসী আবুল কাসেমের স্ত্রী আ‌মেনা বেগ‌মের পরিবারের সঙ্গে কবির হোসেনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা চলছে। আবুল কাসেম ও তার ছেলে প্রবাসে থাকায় বাড়িতে একা থাকেন তার বৃদ্ধা স্ত্রী আমেনা বেগম (৬০)। অভিযোগ উঠেছে, জমি নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও কবির হোসেন প্রবাসী আবুল কাসেমের পাকা টিন‌শেড বি‌ল্ডিং‌য়ের দেওয়াল ঘেঁষে কোনো ধরনের প্রতিরোধ প্রাচীর (পাড়) না রেখে মাছ চাষের জন্য গর্ত খুঁড়ে মাটি সরিয়ে নিচ্ছেন। ফলে যেকোনো মুহূর্তে টিনশেড দালানটি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

​ভুক্তভোগী আমেনা বেগম আকুতি জানিয়ে বলেন, “বাধা দেওয়া সত্ত্বেও কবির হোসেন আমার খামারঘরের পাশ থেকে প্রতিনিয়ত মাটি সরিয়ে নিচ্ছেন। মাটির ভাংগন ঠেকা‌নোর জন্য বস্তা দি‌য়ে তৈরি বা‌ধের বাঁশের খুঁটিও তুলে ফেলছেন। এর ফলে আমার দালানটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। এর আগেও সে আমার একটি কাঁচা ঘরের ভিটির মাটি খুঁড়ে নিয়ে গেছে এবং নিয়মিত ধোঁয়া দিয়ে চালার টিন নষ্ট করেছে। এসবের প্রতিবাদ করলে গালিগালাজসহ নানা হুমকি দেয়।”

​একই বাড়ির অপর প্রতিবেশী মো. আবুল হাশেম জানান, কবির হোসেনের পরিবার রাতের আঁধারে তার পুকুর থেকে মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়ে তিনি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

​মো. শাম মিয়া ও মো. কামাল হোসেনসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, কবির ও তার ছেলেরা প্রতিনিয়ত এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প‌রিবার‌টির জমি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পুরো গ্রামজুড়ে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​অভিযোগের বিষয়ে মো. কবির হোসেন বলেন, “আবুল কাসেম আমার জায়গায় বাড়ি করেছে। আমি আদালতে দুটি মামলা করেছি, অন্যদিকে তারা আমার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা করেছে। সব কিছুর ফয়সালা আদালতেই হবে। আমি আমার জায়গায় গর্ত করে মাছ চাষ করছি। তারা সীমানা ঘেঁষে দালান করেছে, এতে ফাটল ধরলে আমার কী করার আছে?”

​এ বিষয়ে গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের সদস্য মো. স্বপন বলেন, “কবির হোসেনের সঙ্গে আবুল কাসেমের বিরোধটি মূলত জমি সংক্রান্ত। একই জমির মালিকানা দুই পক্ষই দাবি করছে। যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন, তাই আমি উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চলার অনুরোধ করেছি।”