শরতের কাশফুলে সেজেছে গোমতীর চর

আহনাফ তিহামী,দাউদকান্দি।।
বর্ষার বিদায়বেলায় প্রকৃতিতে এসেছে শরতের আভাস। নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল জানান দিচ্ছে ঋতু বদলের। এরই মধ্যে সাদা কাশফুলে সেজে উঠেছে গোমতী নদীর চর। নদীর পাড়জুড়ে ফুটে থাকা কাশফুলের শুভ্রতায় বদলে গেছে পুরো এলাকার দৃশ্য।

দাউদকান্দি সেতু থেকে নামার পর পাখির মোড় এলাকাটি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। গোমতী নদীর চর ঘেঁষা এ এলাকায় শরতের কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা।

শনিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর চরে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কাশফুল ফুটে আছে। বাতাসে দুলছে সাদা কাশের শীষ। কোথাও নদীর পানি, কোথাও সবুজ ঘাস আর তার মাঝখানে সাদা কাশফুল সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিকেলের নরম আলোয় কাশফুলের শুভ্রতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বর্ষার পানি এখনো পুরোপুরি সরে যায়নি। নদী ও চরজুড়ে তার রেশ রয়েছে। কখনো রোদ, কখনো মেঘ আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের মধ্যেই শরতের নিজস্ব রূপ ফুটে উঠেছে। কাশবনের ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে গেলে সাদা ফুলগুলো একসঙ্গে দুলে ওঠে। দূর থেকে মনে হয়, নদীর চরে যেন সাদা ঢেউ উঠেছে।

বাংলার প্রকৃতিতে কাশফুল শরতের অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য। সাধারণত বর্ষার শেষভাগ থেকে শরতের শুরুতে নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ের পাড়ের পলিমাটিতে কাশবন গড়ে ওঠে। ঘাসজাতীয় এ উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum spontaneum। কাশগাছ বেশ লম্বা হয় এবং এর ফুল সাদা, নরম ও তুলতুলে।

শরৎ এলেই কাশফুলের সঙ্গে বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির সম্পর্কও নতুন করে সামনে আসে। গ্রামবাংলার মাঠ, নদীর চর কিংবা জলাশয়ের পাড়ে সাদা কাশফুলের দোলা শরতের আগমনী বার্তা বহন করে। দুর্গাপূজার আগমনের সঙ্গেও কাশফুলের একটি সাংস্কৃতিক যোগ রয়েছে।

পাখির মোড় এলাকার গোমতী নদীর চরের কাশবনেও সেই পরিচিত শরতের আবহ দেখা যাচ্ছে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ একাই ছুটে আসছেন। অনেকেই কাশফুলের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ আবার নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করছেন বিকেলের পরিবেশ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর বর্ষার পানি কমে যাওয়ার পর নদীর চর ও আশপাশের খোলা জায়গায় কাশফুল ফুটতে শুরু করে। শরতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এ সময় বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে আসেন।

শরৎ যেন এভাবেই নীরবে তার আগমনের কথা জানিয়ে দেয় কাশফুলের সাদা দোলায়, নীল আকাশের ফাঁকে, নদীর জলে আর ভেজা মাটির গন্ধে। আর সেই সৌন্দর্যের টানেই গোমতী নদীর পাড়ের পাখির মোড় এখন হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি স্থান।