প্রতিবেশির সহায়তায় অর্ধাহারে-অনাহারে চলছে জীবন ‘নিরাপদ ঘর’ স্বপ্নই থেকে যাবে স্বামী ও সন্তানহীন মুর্শিদা বেগমের?
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি।।
বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি মানুষেরই কিছু স্বপ্ন থাকে। মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঘর, দু’মুঠো খাবার আর চিকিৎসা সেবা-এগুলো একজন মানুষের সবচেয়ে বড় আকাঙ্খা। কিন্তু কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের পশ্চিম ডেকরা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মরহুম আবুল বশরের স্ত্রী মুর্শিদা বেগমের জীবন থেকে স্বপ্ন যেন বহু আগেই হারিয়ে গেছে অভাবের নির্মম বাস্তবতায়। এখন তাঁর প্রতিটি দিন কাটে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুর্শিদা বেগম ঝরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করছেন। বৃষ্টি নামলেই ঘরের ছাউনির অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে থাকে। তখন ঘরের এক কোণ থেকে আরেক কোণে ছুটতে হয় তাকে। রাতে বৃষ্টি হলে কখনো নির্ঘুম রাত কাটান, আবার কখনো বাধ্য হয়ে আশ্রয় নেন প্রতিবেশীর ঘরে। একটি নিরাপদ ঘরের অভাব এখন তাঁর প্রতিদিনের বাস্তবতা।
চোখে অশ্রু আর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মুর্শিদা বেগম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় কখনো খেয়ে আবার কখনো খেয়ে জীবন পার করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও সাইফুল ইসলামসহ আরো অনেকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই চরম কষ্টে জীবন কাটাচ্ছেন মুর্শিদা বেগম । প্রতিবেশীরা সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার এবং কিছু অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন। কিন্তু এসব সাময়িক সহায়তা। তার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি নিরাপদ বাসস্থান। সামান্য বৃষ্টি হলে তা ঘরের বাহিরে বৃষ্টি পড়ার আগে ভিতরে পড়ে। যার কারনে মুর্শিদা বেগম সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের নিকট একটি নতুন ঘর নির্মাণে সহযোগিতা চেয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, স্বামী হারা ও সন্তানহীন মুর্শিদা বেগকে সরকারি পুণর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও আবাসন সুবিধার আওতায় আনা গেলে তাঁর জন্য অত্যন্ত ভালো হতো। অসহায় এই মুর্শিদা বেগমের দিকে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। কারণ, একটি নিরাপদ ঘর অসহায় মুর্শিদা বেগমের চোখের জল মুছে দিতে পারে।
আলকরা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, আপনার মাধ্যমে জেনেছি। খোঁজ নিয়ে সহযোগিতার চেষ্টা করবো।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, খোঁজ নিয়ে স্বামী ও সন্তানহীন নারী মুর্শিদা বেগম ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।