আহনাফ তিহামী, দাউদকান্দি।।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত একটি সেতু এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। মাঝের অংশ দেবে গিয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, পিলারগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, রেলিং থেকে খসে পড়েছে পলেস্তারা, আর মরিচাধরা রড বেরিয়ে এসেছে বাইরে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেতুটি টিকিয়ে রাখতে স্থানীয়রা শতাধিক বাঁশের খুঁটি গেড়ে অস্থায়ীভাবে ধরে রেখেছেন। তবে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যান চলাচল। ফলে দুই উপজেলার সাত গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক এসে যেন থেমে গেছে সেতুর মুখে। অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহন আর সেতু পার হতে পারছে না। মাঝের অংশ দেবে যাওয়ায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ওপরের অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। রেলিংয়ের পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। পিলারগুলোও প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা শতাধিক বাঁশের খুঁটি গেড়ে সেতুটি কোনোভাবে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

জানা যায়, দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গোমতী নদীর গোলাপেরচর পাড় থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পাকা সড়কটি চেঙ্গাকান্দি উত্তর পাড়ায় গিয়ে শেষ হয়েছে। এই সড়কের মাঝখানেই গোমতীর শাখা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি অবস্থিত। প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত এই সেতুর পিলারগুলো বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাঝের অংশের পিলার দেবে যাওয়ায় সেতুতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের খুঁটি বসিয়ে সেতুটি রক্ষার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গোলাপেরচর গ্রামের গোমতীর শাখা খালের ওপর থাকা একমাত্র সেতু। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় দুই উপজেলার সাত গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার, কলেজ শিক্ষার্থী আজিজ আব্দুল্লাহ, অটোচালক মো. খালেক, স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ প্রধান ও মফিজুল ইসলাম দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান। তারা বলেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই মানুষের দুর্ভোগ ও প্রাণহানি এড়াতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।