ব্রাহ্মণপাড়ায় ভর্তি ফরমে ‘মুজিব শতবর্ষ’ ও স্লোগান: ইনচার্জকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ

গাজী রুবেল।।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার চান্দলা করিম বক্স হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ভর্তি ফরমে শেখ মুজিবের ছবি, ‘মুজিব শতবর্ষ’ লোগো এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক স্লোগান ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখার ইনচার্জকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও সরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে পরিচালনা কমিটি। গত মঙ্গলবার সকালে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফরমে ‘মুজিব শতবর্ষ’ লোগো এবং ‘শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগানটি দেখতে পাওয়া যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিবাদ জানান ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফয়সাল কবির আখন্দ। এক ফেসবুক বার্তায় তিনি লেখেন, “চান্দলা করিম বক্স হাই স্কুল এন্ড কলেজের ভর্তি ফরমে শেখ মুজিবের ছবি ও শেখ হাসিনার বাংলাদেশ লিখে ভর্তি ফরম ছাপিয়ে বিতরণ করা হচ্ছে। ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এখনো আওয়ামী ভূত অনভিপ্রেত। এর পেছনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এদিকে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তফা জামান। তিনি বলেন, “ভর্তি ফরমে মুজিব শতবর্ষ আর হাসিনার উক্তি ব্যবহার করার মতো ধৃষ্টতা আওয়ামী দোসররা কীভাবে দেখায়? এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

অভিযোগ সূত্রে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিতর্কিত এই কাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া স্থানীয় ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি এবং কলেজ শাখার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ সাবেক সংসদ সদস্যের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কলেজ ইনচার্জ একে অপরকে দোষারোপ করছেন। অধ্যক্ষের দাবি, তাঁকে না জানিয়ে ইনচার্জ একক সিদ্ধান্তে ভর্তি কার্যক্রম চালিয়েছেন। অন্যদিকে ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদের দাবি, ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্তেই ফরম ছাপানো হয়েছে এবং এটি কম্পিউটার অপারেটরের ভুল হতে পারে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চান্দলা করিম বক্স হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আবুল বাশার সরকার জানান, আমাদের সন্তানদের এত আন্দোলনের পর এমন ঘটনা ঘটা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। ঘটনার সত্যতা পেয়ে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কলেজ শাখার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কলেজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল করিম জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।