সোলার এক্সপোতে প্রথম ঢাবির রোবোটিক্স দল, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিলেন দেবীদ্বারের জারা

‎তাছকিয়া রহমান প্রতিভা, দেবীদ্বার।।

‎রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’।

‎মেলায় পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্ভাবনী প্রজেক্ট প্রদর্শন করে বাজিমাত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একদল অদম্য তরুণ-তরুণী। তাদের তৈরি বিশেষ জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রকল্পটি এক্সপোতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

‎অনুষ্ঠানের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী দলের হাতে প্রথম পুরস্কার তুলে দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া।

‎ঢাবি রোবোটিক্স দলের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি ও পুরস্কার গ্রহণ করেন দলের অন্যতম প্রধান সদস্য এবং দেবীদ্বারের কৃতি সন্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জারা তাসনুভা আলম (২১) ও তার বান্ধবী হুমায়রা তাবাসসুম তুরাজার দল প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছে।

‎প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের এই গৌরবময় মুহূর্তে সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত সবার করতালি ও প্রশংসায় মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারে এই তরুণ-তরুণীদের উদ্ভাবন উপস্থিত বিশেষজ্ঞদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।

‎এই অনন্য অর্জনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার নাম দেশজুড়ে উজ্জ্বল করেছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

‎জারা তাসনুভা আলম দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের সুযোগ্য কন্যা। মেয়ের এই গৌরবময় সাফল্যে আনন্দিত ও গর্বিত তার পরিবারসহ দেবীদ্বারের সর্বস্তরের মানুষ।

‎পুরস্কার গ্রহণ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করে জারা তাসনুভা আলম বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করা আমার জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। এই অর্জন আমাদের পুরো দলের কঠোর পরিশ্রমের ফল। আমাদের এই প্রকল্পটি আগামী দিনে দেশের জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। আমার এই পথচলায় সব সময় পাশে থাকার জন্য আমি আমার বাবা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম এবং পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

‎গর্বিত মেয়ের সাফল্যে আনন্দে আত্মহারা পিতা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, আমার মেয়ে জারা তাসনুভা আলমসহ তার দলের তৈরি বিশেষ জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রকল্পটি এক্সপোতে প্রথম স্থান অর্জন করার গৌরব লাভ করায় আমি গর্বিত এবং সার্থক। তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানের বিভিন্ন স্তরে স্তরে আমার পরিবারের সদস্যদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করছি। আমার দ্বিতীয় মেয়ে সারাহ তাসফিয়া আলম (১৯) গাজীপুরের আইইউটিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং একমাত্র ছেলে আইয়ান মুকতাদির আলম (১৩) বুয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তিনি তার সন্তানদের নিয়ে গর্ব করে আরও বলেন, আমার সন্তানদের জন্য সবার দোয়া প্রার্থনা করছি। তারা যেন ভবিষ্যতে প্রত্যেকে ভালো মানুষ হতে পারে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রকল্প প্রদর্শন করেন। সবকটি উদ্ভাবনকে পেছনে ফেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স বিভাগের এই প্রকল্পটি মেলা কমিটির বিচারকদের বিবেচনায় সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়। তরুণদের এমন পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন আগামী দিনে টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।