আহনাফ তিহামী, দাউদকান্দি প্রতিনিধি:
কুমিল্লার তিতাসে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে মো. ইউসুফ ভূঁইয়া (৫২) নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলার মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার একলারামপুর গ্রামে নিহত ইউসুফ ভূঁইয়ার নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তাঁর ছেলে ও হত্যা মামলার বাদী শ্রাবণ আহমেদ। এ সময় নিহতের স্ত্রী সেনোয়ারা বেগম, মেয়ে ইশরাত জাহান ও মা বাছিয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী সেনোয়ারা বেগম বলেন, অপরাধীদের হাত কি এতটাই লম্বা যে তাদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। আমরা অসহায় নারী বলে কি ন্যায়বিচার পাব না। আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, বিশেষ করে মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। এটাই আমাদের চাওয়া।
লিখিত বক্তব্যে শ্রাবণ আহমেদ বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁর চাচা শওকত আলীকে মারধর করা হলে তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান বাবা ইউসুফ ভূঁইয়া। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁর বাবার ওপরও আক্রমণ করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শওকত আলীও আহত হন।
শ্রাবণ আহমেদ অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করা মূল আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হননি। তাঁরা এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার তিতাস থানায় যোগাযোগ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও মুঠোফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যামামলার মূল ও পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, কুমিল্লা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও মামলার সাক্ষীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আসামি গ্রেপ্তার ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরিবারকে নিয়মিত অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতার অনুরোধ জানান স্বজনেরা।
এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক বলেন, জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইউসুফ মাটিতে পড়ে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে মারধর করেন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।