মেঘনায় কুহিনূর হত্যার ৮ আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মো. জাহাঙ্গীর আলম,মেঘনা।।
কুমিল্লার মেঘনায় পৈতৃক সম্পত্তির দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কুহিনূর আক্তার হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আট আসামি এখনো গ্রেপ্তার হননি। মামলার ৬১ জন এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে গত ২৫ আগস্ট ৪১ জন হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন। পাঁচজন কারাগারে এবং আরও সাতজন জামিনে মুক্ত রয়েছেন। ফলে গ্রেপ্তার না হওয়া আট আসামি এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। নিহত কুহিনূর আক্তার (৩৮) মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চর বিননপুর গ্রামের কাবিল মিয়ার স্ত্রী।

গত ২৬ জুলাই মেঘনা ও তিতাস উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তির দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কুহিনূর আক্তার নিহত হন। ঘটনার দুই দিন পর, ২৮ জুলাই দিবাগত রাতে মেঘনা থানায় ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের স্বামী কাবিল মিয়া। মামলা দায়েরের রাতেই চারজন এবং পরদিন ২৯ জুলাই আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে মো. হান্নান (২৬), মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মাইনুদ্দিন (৪০), মৃত ছমির উদ্দিন বেপারীর ছেলে কাশেম বেপারী (৬০), আমান উল্লাহর ছেলে মো. রানা (২১) এবং মেঘনা উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. সুরুজ মিয়া (৬২)।

বিননপুর গ্রামের আলী আকবরসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘পাঁচজন আসামি ছাড়া মামলার আর কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি ভয়ে ওই এলাকায় যেতে চান না। তাঁর গাফিলতির কারণে অনেক আসামি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। শাহবাগ থানার অনুমতি নেওয়ার কথা বলে তিনি কৌশলে সেখানে সময়ক্ষেপণ করেছেন। তাঁর এই সময়ক্ষেপণের সুযোগে আসামিরা আদালত থেকে জামিন নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আট আসামির জামিন না হলেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, ওয়ারেন্টভুক্ত এসব আসামি বিভিন্নভাবে বাদী ও তাঁর পক্ষের লোকজনকে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন।’

তবে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাঈদ সানাউল্লাহ বলেন, ‘এটি হত্যা মামলা। আসামিদের গ্রেপ্তারে আমার কোনো ধরনের গাফিলতি নেই। সেদিন আমি হাইকোর্টে যাওয়ার আগেই আসামিরা সেখান থেকে চলে যান। এ কারণে তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পরে জানতে পেরেছি, হাইকোর্ট তাঁদের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।’

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই এলাকায় যেতে হলে নদী পার হয়ে যেতে হয়। মামলার আসামিরা দাউদকান্দির ভাটেরা, তিতাসের চর ভাটেরা এবং মেঘনার চর কাঠালিয়া ও বিননপুর এলাকার বাসিন্দা। আসামিদের গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানার সহযোগিতা নিতে হয়। এরপরও আসামিদের গ্রেপ্তারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। যারা জামিনে বের হয়েছেন, তাঁরা সাময়িক সময়ের জন্য জামিনে আছেন। তবে সব আসামিকেই আইনের আওতায় আসতে হবে এবং আমরা তাঁদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’