ডেস্ক রিপোর্ট।।
ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হলে মার্কিন ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কাই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
শনিবার (২৫ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের কমে আসা মজুত একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল।
বিশেষ করে জর্ডানে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আঘাত হানার পর তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চালানো সামরিকভাবে সম্ভব হলেও, এতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) হাতে থাকা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানায়, শুক্রবার ট্রাম্প, তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যদের বৈঠকের পরই সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সূত্র দুটির দাবি, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রায় কেউই ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় পরিসরের সামরিক অভিযানকে এই মুহূর্তে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত বলে মনে করেননি।
ট্রাম্পকে দেওয়া জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পরামর্শের বিষয়ে আরও জানতে চাওয়া হলে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান কেইনের একজন মুখপাত্র।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের অভ্যন্তরীন হিসাব ও কংগ্রেস কর্মকর্তাদের মতে, গত এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চলাকালে ১ হাজার ২০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করেছিল। প্রতিটি ইন্টারসেপ্টেরের মূল্য প্রায় ৪০ লাখ ডলারের বেশি।
সামরিক কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ওই সময়েই মার্কিন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মুজদ উদ্বেগজন পর্যায়ে নেমে এসেছিল। এরপর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বর্তমানে সেই মজুত আরও কমে এসেছে।
হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চেউং মার্কিন সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরাই ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন।
তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা সৃষ্টি বা মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ অব্যাহত রাখে, তাহলে ওয়াশিংটন সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখবে। আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোই ইরানের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্যথায় কী হতে পারে, তা তারা (তেহরান) জানে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমস-কে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা যাবে, এমনটা তিনি মনে করেন না।
অন্যদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও কয়েকটি সূত্রের দাবি, নতুন করে বড় ধরনের হামলা হলে তার ফল উল্টো হতে পারে। এতে ইরানের নেতৃত্ব বহিরাগত হুমকির মুখে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে পড়বে। এমনকি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।