সেতুতে উঠলেই ভয়ে বুক ধড়ফড়, পাঁচ বছরেও কাটেনি ১০ গ্রামের দুর্ভোগ

আহনাফ তিহামী,দাউদকান্দি।।
সেতুতে উঠলেই ভয়ে বুক ধড়ফড় করে। মনে হয়, যেকোনো সময় ভাঙা সেতুর বাকি অংশও ভেঙে সেতুর সঙ্গে পানির নিচে চলে যাব। প্রতিদিন অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। এই সেতু ছাড়া আমাদের আর কোনো রাস্তা নেই।

কথাগুলো কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাসেলের। পাঁচ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকা একটি সেতু পার হয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাকে। শুধু রাসেল নয়, ওই সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের হরিনা বাজার–ভবানীপুর এলাকার বাজারখোলা খালের ওপর নির্মিত সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। মাঝের অংশের পিলার দেবে গিয়ে সেতুতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে মানুষ। সেতু দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলও চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাজারখোলা খালের ওপর সেতুটি ১৯৯০-এর দশকে নির্মাণ করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে সেতুটির মাঝের অংশের একটি পিলার দেবে গিয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে সেতুটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি।

সেতুটির কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রতিদিন বিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় তাদের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে। একইভাবে অসুস্থ রোগীকে সিএনজি অটোরিকশা বা অন্য কোনো যানবাহনে করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় স্বজনদের আতঙ্কে থাকতে হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম, ভবানীপুর, ঠেটালিয়া, তুলাতলী, নলচক, নয়াচর, পাঁচগাছিয়া, বাজারখোলা উত্তরপাড়া, বাজারখোলা দক্ষিণপাড়া ও শৈঠারদিয়া গ্রামের মানুষকে এই সেতু দিয়ে চলাচল করতে হয়। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এসব গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সরকার আরিফ ও মো. শাকিল আহমেদ চৌধুরী বলেন, পাঁচ বছর ধরে সেতুটি এভাবে পড়ে আছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে যায়। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতেও সমস্যা হয়। দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন করে একটি সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এই সেতুসহ প্রায় সাত থেকে আটটি সেতু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে মেরামতের যোগ্য প্রায় ৭০টি সেতুর তালিকা করে সদর দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। অনুমোদন হলে এসব সেতুর মেরামতের কাজ করা যাবে।

পাঁচ বছর ধরে ভাঙা সেতুটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের আশায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।