গাজী রুবেল।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সরকারি কর্তব্যকাজে বাধা প্রদান ও চাঁদাবাজিসহ তিনটি মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের শিদলাই বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—শিদলাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমির হোসেন জুবেদা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি মো. সাব্বির হোসেন (২৬) ও একই গ্রামের মো. শাকিব (২৫)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা তিনটি মামলারই এজাহারনামীয় আসামি এবং এতদিন পলাতক ছিলেন। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসেন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসেনের নির্দেশনায় এসআই সুজন কুমার আচার্য, এসআই মো. রফিকুল ইসলাম ও এসআই মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে সিদলাই ইউনিয়নের পৃথক স্থান থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাব্বির হোসেন ও মো. শাকিবকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, সরকারি কর্তব্যকাজে বাধা প্রদান ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় তাদের নাম রয়েছে।
আমির হোসেন জুবেদা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, ৭০০ টাকার একটি হাঁস বিক্রির সময় সাব্বির হোসেন ৩০০ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। এ ঘটনায় এক হাঁস বিক্রেতা ব্রাহ্মণপাড়া থানায় অভিযোগ করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাব্বির হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি এমদাদুল হক ধীমান বলেন, সংগঠনের প্রতি তাদের ত্যাগ এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা বিবেচনা করেই সাব্বির হোসেনকে আমির হোসেন জুবেদা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি কোনো অনিয়ম বা অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়লে এর দায় সংগঠন নেবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি ফারুক হোসেন বলেন, ‘দুজনকে তিনটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালতে তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।