তাপস চন্দ্র সরকার।।
ভাদ্র মাস শুরু হতেই কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়েছে। দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ানো এসব কুকুর পথচারীদের তাড়া করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা পড়েছেন বেশি বিপাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিন ভোর ও সকালবেলা রাস্তায় বের হলেই বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর পথচারীদের দিকে তেড়ে আসে। কখনো একা, আবার কখনো দলবদ্ধ হয়ে পথচারীদের পিছু নেয় এসব কুকুর। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই দৌড় দেন কিংবা পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। ব্যস্ত সড়কে কুকুরের তাড়া খেয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
গতকাল সকালে নগরীর ফৌজদারি টু কালিয়াজুরী সড়কের ছোটরা তিন রাস্তার মোড় এলাকায় এমনই চিত্র দেখা যায়। এ সময় পথচারীদের দিকে একাধিক বেওয়ারিশ কুকুর তেড়ে আসতে দেখা যায়। স্থানীয়রা ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। তাদের ভাষ্য, এ এলাকায় এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়; প্রায়ই পথচারীদের কুকুরের তাড়া খেতে হয়।
নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ও সন্ধ্যার দিকে বেওয়ারিশ কুকুরের আনাগোনা বেশি দেখা যায়। খাবারের সন্ধানে এসব কুকুর দলবদ্ধ হয়ে সড়ক ও অলিগলিতে ঘোরাফেরা করে। কোনো পথচারী দৌড় দিলে কিংবা মোটরসাইকেল ও সাইকেল নিয়ে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কুকুরগুলো তাড়া করলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকার অলিগলি পর্যন্ত দিন দিন বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও উন্মুক্তভাবে খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকায় কুকুরের আনাগোনা বাড়ছে বলেও মনে করছেন তারা।
অভিভাবকদের অনেকেই জানান, সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। অনেক শিশু একা রাস্তায় হাঁটতে ভয় পাচ্ছে। বিশেষ করে সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে কুকুরের দল তাড়া করলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণ নয়, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও কার্যকর করা জরুরি। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে উন্মুক্ত খাবারের উচ্ছিষ্ট কমবে, ফলে কুকুরের আনাগোনাও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এ অবস্থায় নগরীর বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের আওতায় এনে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি কুকুরের উৎপাত কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও মানবিক পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্কুল-কলেজের আশপাশ ও আবাসিক এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বেওয়ারিশ কুকুর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।