দেবীদ্বারে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শহিদুল হকের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

তাছকিয়া রহমান প্রতিভা, দেবীদ্বার।।

প্রবীণ সাংবাদিক, শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল হকের জানাজা এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টায় দেবীদ্বার ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সকাল ১১টায় বাঙ্গরা বাজার থানার (মুরাদনগর) বাইড়া মোহাম্মদ আরিফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সালাম (গার্ড অব অনার) প্রদান শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে, বাঙ্গরা উপজেলার বাইড়া মোহাম্মদ আরিফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, দেবীদ্বার মাদ্রাসাপাড়ার জয়ভেরি হাউসের বাসিন্দা, জয়ভেরী পত্রিকার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক শহিদুল হক গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, লিভার ও কিডনিজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী সুফিয়া আক্তার হক, চার পুত্র—সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মো. নোমানুল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের কাউন্সিলর মো. নাজমুল হক, ময়মনসিংহ জেলার টুরিস্ট বিভাগের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নাইমুল হক, তিতুমির সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. নাদিমুল হক। ৩ কন্যার মধ্যে সবুজবাগ সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান কলি, আমেরিকা চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ডাঃ রোমানা কান্তা এবং মাউস-এর গবেষণা কর্মকর্তা রোকসানা কণাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মরহুম শহিদুল হক কর্মজীবনের শুরুতে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক সংগঠন এবং পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি দেবীদ্বার-মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি, মুরাদনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি, মানবাধিকার কমিশন দেবীদ্বার শাখার সভাপতি, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর পরিচালক এবং কুমিল্লা জেলা সম্পাদক পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত ‘মাসিক জয়ভেরি’ ও সাপ্তাহিক সভ্যতা পত্রিকার সম্পাদক পদে এবং দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার মুরাদনগর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে এই অপূরণীয় ক্ষতিতে স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সাংবাদিক সহিদুল হক ১৯৪৪ সালে বাঙ্গরা উপজেলার আন্দিকুট ইউনিয়নের বারেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম সামসুল হক মাস্টার ছিলেন এলাকার আলোকিত শিক্ষক। পরবর্তীতে তিনি বাইরা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সন্তানদের শিক্ষালাভে এবং সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার পর দেবীদ্বার সদরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

দেবীদ্বারে প্রথম জানাজার পূর্বে মরহুমের জীবনকর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক আলোকপাত করেন বিশিষ্ট রাজনীতিক আনোয়ার হোসেন ভুলু পাঠান, সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম সহিদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. তাজুল ইসলাম, দেবীদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) রোজি আক্তারের পক্ষে তাঁর স্বামী মাউস-এর সহযোগী অধ্যাপক মো. জসীম উদ্দিন, নিহতের ছেলেদের মধ্যে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মো. নোমানুল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের কাউন্সিলর মো. নাজমুল হক, ময়মনসিংহ জেলার টুরিস্ট বিভাগের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নাইমুল হক প্রমুখ। জানাজার নামাজ পড়ান হাফেজ মাওলানা রাসেদুল আলম।