পারভেজ সরকার:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২ হাজার ৩৮৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৩৭ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন। গত ২০ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে এত খারাপ ফল আর দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম। এ সময় দেবিদ্বার উপজেলার ফলাফল বিশ্লেষণে এমন চিত্র দেখা যায়। দেবিদ্বার উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সাধারণ শাখায় ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ২২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯২৯ জন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২ জন। অন্যদিকে ভোকেশনাল (কারিগরি) শাখার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৫৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১০৮ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। কারিগরিতে পাসের হার ৬৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেবিদ্বারের দি রয়েল কলেজে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এই কলেজ থেকে ২৬৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২২৮ জন এবং পাসের হার ৮৫ দশমিক ০৭ শতাংশ। তবে এই কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। অন্যদিকে, সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মোহনপুর পাবলিক কলেজ। এ কলেজের ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৫ জন। পাসের হার ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এই কলেজ থেকেও জিপিএ-৫ পায়নি কেউ।
এ ছাড়া দেবিদ্বার ফাতেহাবাদ নায়েব আলী কলেজ থেকে ৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৫ জন, পাসের হার ৫৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। খলিলপুর গঙ্গামন্ডল মডেল কলেজে ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৬ জন, পাসের হার ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বড়শালঘর এবিএম গোলাম মোস্তফা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৯৪ জন, পাসের হার ৫০ দশমিক ২৭ শতাংশ।
দুয়ারিয়া আব্দুল গফুর একাডেমি থেকে ১১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫৪ জন, পাসের হার ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ। রাজামেহার ইঞ্জি. মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি কলেজ থেকে ২৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১১২ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাসের হার ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ। ধামতী রৌশন আরা কলেজ থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৬ জন, পাসের হার ৪০ শতাংশ। এলাহাবাদ মহাবিদ্যালয় থেকে ৭২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৮ জন, পাসের হার ৩৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
মোহাম্মদপুর সিরাজুল হক কলেজ থেকে ২৫৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৮৯ জন, পাসের হার ৩৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। কুমিল্লা মডেল কলেজ থেকে ৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৪ জন, পাসের হার ৩৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। খলিলপুর গঙ্গামন্ডল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ থেকে ৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৯ জন, পাসের হার ৩২ দশমিক ৯৫ শতাংশ। দেবিদ্বার এসএ সরকারি কলেজ থেকে ২৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭৬ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাসের হার ২৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।
জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর কলেজ (সাধারণ শাখা) থেকে ৪৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১২৬ জন, পাসের হার ২৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। দেবিদ্বার আলহাজ্ব জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজ থেকে ৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৭ জন, পাসের হার ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
অপরদিকে কারিগরি (ভোকেশনাল) দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর কলেজ থেকে ১০৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭২ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাসের হার ৬৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। আদর্শ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে ৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৬ জন, পাসের হার ৬৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর কুমিল্লার কাগজকে বলেন, “আগের বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ফলাফল ধসে পড়েছে। তবে দেবিদ্বারে আগের বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষা অনেক কড়াকড়ি হয়েছে। আগে ঢালাও পাস করানো হতো, এ বছর তা করা হয়নি। এখন যারা পাস করেছে, তারা পড়াশোনা করেই পাস করেছে। এখন পরীক্ষার হলে এদিক-ওদিক তাকানো যায় না। এই বার্তাটি কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে গেছে। তাই আগামীতে পরীক্ষার ভালো ফলাফল পাওয়ার আশা করছি। এখন পরীক্ষার সিস্টেম পরিবর্তন করা হয়েছে।”