পরীমনির দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীকে মারধর, সাংবাদিকদেরও হয়রানির অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমনির দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে এক বিচারপ্রার্থীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সাংবাদিকদের মারধর, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং আদালতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন পরীমনি। শুনানি শেষে বিচারক মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় পরীমনির সঙ্গে কালো পোশাক পরা ১১ জন দেহরক্ষী ছিলেন।

আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনির দেহরক্ষীদের আঘাতে মো. সুজন নামের এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সুজনের বড় ভাইয়ের দাবি, পারিবারিক জমিসংক্রান্ত মামলায় আদালতে এসে তাঁরা দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পরীমনির দুজন দেহরক্ষী তাঁদের ধাক্কা দেন এবং সুজনের মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা থেকে রক্ত বের হতে থাকে।

এদিন পরীমনির দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও কয়েকজন আইনজীবীকে আদালতে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। আদালত ভবনের নিচে কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর ও তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন ভুক্তভোগীরা। পরে সাংবাদিকেরা তাঁদের মুঠোফোন ফেরত পান।

পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, তিনি এসব ঘটনা সরাসরি দেখেননি। তবে এমন কিছু ঘটে থাকলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের জুনে ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমনি তাঁকে গ্লাস ও মুঠোফোন ছুড়ে মারেন এবং ভয়ভীতি দেখান।

গত বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও পরীমনি আদালতে হাজির হননি। তাঁর পক্ষে সময়ের আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করে জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

সূত্র: প্রথম আলো