দেবীদ্বারে সরকারি শিশু পরিবারে বৃক্ষরোপণ: পরিবেশবান্ধব উপজেলা গড়ার প্রত্যয়

তাছকিয়া রহমান প্রতিভা, দেবীদ্বার।।

দেবীদ্বার পৌর এলাকার গুনাইঘরে অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার প্রাঙ্গণে দেবীদ্বার এনজিও ফোরামের উদ্যোগে একটি সামাজিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় আয়োজিত এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। দেবীদ্বারকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও সবুজ বনায়নসমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে রূপান্তর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তবে এই মহতী উদ্যোগ কেবল প্রশাসনের একক প্রচেষ্টায় পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়। দেবীদ্বারের প্রতিটি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসে, তবেই আমরা একটি সবুজ ও আদর্শ উপজেলা গড়ে তুলতে পারব। তিনি উপস্থিত সবাইকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ ও সেটির সঠিক পরিচর্যার আহ্বান জানান।

পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) বরুণ দে, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নোমানুল হক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

এ ছাড়া এনজিও ফোরামের আহ্বায়ক ও গ্রাম আদালতের উপজেলা সমন্বয়ক মোহাম্মদ সাইফুল করিম খান, আবেদা-মান্নান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মোরশেদ আলম ভূঁইয়া, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উপাধ্যক্ষ এটিএম সাইফুল ইসলাম, পেইজের শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন, পপির শাখাব্যবস্থাপক শেখ ফয়সাল প্রমুখ।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শিশু পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা দেবীদ্বারের পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের সামাজিক ও স্বেচ্ছামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এনজিও ফোরামের সদস্য—আবেদা মান্নান ফাউন্ডেশন, পপি, ব্র‍্যাক, পদক্ষেপ, শক্তি, পল্লীমঙ্গল, আশা, ইপসা, পেইজ, আরারেফ, সাজেদাসহ প্রায় ২০টি এনজিওর পক্ষ থেকে ৫টি ফলদ বৃক্ষসহ নানা জাতের প্রায় ১০০টি চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়।

দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা এ সময়ে শিশু পরিবারের সদস্যদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরণ করেন এবং শিশু পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি পাঠাগার নির্মাণের ঘোষণা দেন ও শিগগিরই তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।